বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল মানেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে ফেভারিট তকমাকে মোটেও বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছেন না ব্রাজিলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিসন বেকার। তার মতে, এই পরিচয় বরং দলের ওপর অতিরিক্ত চাপই সৃষ্টি করে।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবারও শক্তিশালী দলগুলোর একটি হলেও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে তাদের পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। সে কারণেই অনেকের চোখে এবারের আসরে ব্রাজিলকে শীর্ষ দাবিদার মনে হচ্ছে না। তবু বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল হিসেবে শিরোপা আলোচনায় তাদের নাম থাকছেই।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক চোটে ভোগার পর এখন পুরোপুরি সুস্থ আলিসন। নিউ জার্সিতে ব্রাজিল দলের হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক বলেন, ২৪ বছরের দীর্ঘ শিরোপাখরা কাটাতে তারা আত্মবিশ্বাসী।
ফ্রান্স, স্পেন এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মতো দলগুলোকে অনেক বেশি গুছিয়ে থাকা দল হিসেবে উল্লেখ করা হলে ব্রাজিলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন আলিসন। জবাবে তিনি বলেন, ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হওয়া কোনো দলের জন্যই সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়।
“ফেভারিটের তালিকায় থাকা কারও জন্যই কোনো নিশ্চয়তা নয়। বরং অনেক সময় এটি দলের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে।”
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে কঠিন সময় পার করলেও বর্তমানে দলের ভেতরের পরিবেশ ইতিবাচক বলে জানান তিনি। আলিসনের ভাষায়, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রথম ম্যাচে আপনি কোন অবস্থায় আছেন। আমরা প্রস্তুত।”
বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের পেছনে থেকে পঞ্চম স্থান নিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ব্রাজিল। বাছাইপর্বের শেষ দুই ম্যাচের আগে ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাতে দায়িত্ব তুলে দেয় ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষ। তার অধীনে শেষ দুই ম্যাচে একটি জয় ও একটি পরাজয় আসে।
আলিসনের মতে, আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, “বাছাইপর্বের পুরো সময়টাই আমাদের জন্য কঠিন ছিল এবং আমরা সেটা গভীরভাবে অনুভব করেছি। তবে আনচেলত্তি আসার পর সবকিছু ভালো হতে শুরু করেছে। দলে তার দারুণ প্রভাব রয়েছে। তিনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেন, যেখানে সবাই শান্তভাবে কাজ করতে পারে।”
ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তি প্রায় এক বছর ধরে দলের সঙ্গে কাজ করছেন। ফলাফল মিশ্র হলেও অনেকের বিশ্বাস, তার হাত ধরেই দুই যুগের অপেক্ষা শেষে আবারও বিশ্বকাপ জিততে পারে সেলেসাওরা।
দীর্ঘদিন ধরেই রক্ষণভাগের দুর্বলতা ব্রাজিলকে ভুগিয়েছে। বাছাইপর্বে ১৭টি গোল হজম করেছে দলটি। আলিসনের মতে, ৬৭ বছর বয়সী এই কোচ এখন রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
“আমরা যে গোলগুলো হজম করেছি, তার কিছু সহজেই এড়ানো যেত। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। কারণ বিশ্বকাপ স্বল্প সময়ের একটি প্রতিযোগিতা। আমরা জানি, আমাদের আক্রমণভাগের মান এমন যে গোলের সুযোগ সবসময়ই তৈরি হবে।”
এবারের আসর হবে আলিসনের তৃতীয় বিশ্বকাপ। তিন বা তার বেশি বিশ্বকাপে খেলা গোলরক্ষকদের তালিকায় নিজের নাম যুক্ত হওয়া নিয়ে রোমাঞ্চিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষকদের অভিজাত কাতারে নাম লেখানোই তার বড় লক্ষ্য।
আগামী রোববার মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী আলিসনের বিশ্বাস, সঠিক সময়েই নিজেদের সেরা ছন্দে পৌঁছে গেছে তার দল।

