দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা থালাপতি বিজয়। রবিবার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তৃষা কৃষ্ণানের উপস্থিতি।
বিজয়ের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই অনুষ্ঠানে তৃষার উপস্থিতি এবং পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে তার একটি বিশেষ পোস্ট নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার রসদ জোগাচ্ছে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর নিজের প্রথম পোস্টে তৃষা একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেছেন। সমুদ্র-সবুজ রঙের শাড়ি ও সোনালি কাজের ব্লাউজে সেজেছিলেন তিনি। চুলে বাঁধা সাদা গজরা আর রুবি পাথরের গয়নায় আভিজাত্য ফুটে উঠলেও সবার নজর কেড়েছে তার দেওয়া ছবির ক্যাপশনটি। তৃষা সেখানে লিখেছেন, ‘ভালোবাসা সব সময় উচ্চকিত।’ গুঞ্জন যখন চারদিকে ডালপালা মেলছে, তখন এই বার্তার মাধ্যমে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে গত কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে ডিএমকে বা এআইএডিএমকে জোটের বাইরে থেকে প্রথম কোনো নেতা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিজয়। তার দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগম (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয়লাভ ও বাকি ১০টিতে সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। শনিবার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করার পর রবিবারের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি বিজয়ের মা শোভা চন্দ্রশেখরের কাছে ছিল অত্যন্ত আবেগঘন, কারণ দিনটি ছিল মাতৃদিবস। বিজয়ের বাবা প্রবীণ পরিচালক এস এ চন্দ্রশেখরও ছেলের এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই বিজয় ও তৃষার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষ করে বিজয়ের বিবাহবিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে এই চর্চা আরও জোরালো হয়। এর আগে দুজনকে একই গাড়িতে করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও কেউ কেউ কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তবে ‘গিল্লি’, ‘কুরুভি’ বা সাম্প্রতিককালের ‘লিও’ সিনেমার এই জনপ্রিয় জুটি তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি মন্তব্য করেননি। এই রহস্যময় নীরবতার মাঝেই তৃষার সর্বশেষ পোস্টটি অনুরাগী ও সমালোচকদের কাছে এক বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

