২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বের ম্যাচে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনকে পেনাল্টি না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ঘটে যাওয়া এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও মাঠের রেফারির পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রিমিয়ার লিগের সাবেক রেফারি গ্রাহাম স্কট। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে অবশ্য শেষ পর্যন্ত জোড়া গোল করে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা, তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক মেক্সিকো।
ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ভেতর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসিকে কাটিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় ফাউলের শিকার হন হ্যারি কেন। কিন্তু জর্ডানিয়ান রেফারি আধাম মোহাম্মদ তুমা মাখাদমেহ ইংল্যান্ডের জোরালো পেনাল্টির আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পরীক্ষা করা হলেও অন-ফিল্ড রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। ভিএআর কর্মকর্তাদের মতে, মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তে কোনো স্পষ্ট ভুল ছিল না এবং গোলরক্ষকের বাধাতেই কেন পড়ে গিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ছিল।
এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। সাবেক ইংলিশ তারকা মাইকেল ওয়েন নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, কেনের সাথে যা হয়েছে তা যদি পেনাল্টি না হয়, তবে পেনাল্টি কাকে বলে তা তার জানা নেই। তিনি পুরো ঘটনাটিকে একটি চরম লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দেন।
অন্যদিকে, রেফারি গ্রাহাম স্কট এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন হ্যারি কেন নিজেই নিজের পেনাল্টি পাওয়ার সুযোগ নষ্ট করেছেন। গোলরক্ষকের দিকে নিজের বাঁ পা টেনে নিয়ে কেন রেফারির মনে সন্দেহের উদ্রেক করেছিলেন। প্রথমে বিষয়টি পেনাল্টি মনে হলেও কেন যেভাবে মাটিতে পড়েছেন তাতে স্পষ্ট ছিল যে তিনি পেনাল্টি আদায়ের জন্য অতিরিক্ত অভিনয় করছিলেন। কেন স্বাভাবিকভাবে দৌড়াতে থাকলে হয়তো এমনিতেই ফাউল হতেন কিংবা ফাঁকা পোস্টে গোল করতে পারতেন।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য বেশ বড় ধাক্কাই খেয়েছিল ইংল্যান্ড। খেলার মাত্র সপ্তম মিনিটে ব্রায়ান সিপেঙ্গার ঐতিহাসিক গোলে এগিয়ে যায় কঙ্গো, যা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দেশটির প্রথম গোল। বল দখলে এগিয়ে থাকলেও থমাস টুখেলের শিষ্যরা প্রথমার্ধে কঙ্গোর রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ম্যাচের ৬০ মিনিটে টুখেল কৌশলী পরিবর্তন এনে অ্যান্থনি গর্ডন এবং বুকায়ো সাকাকে মাঠে নামালে খেলার মোড় ঘুরে যায়। অবশেষে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে কেনের প্রথম গোলে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড এবং ৮৬ মিনিটে তার দুর্দান্ত দ্বিতীয় গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

