প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল পালিত হয় বিশ্ব পেঙ্গুইন দিবস। কিন্তু এবারের দিবসে উৎসবের চেয়ে উদ্বেগটাই বেশি। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ আর অতিরিক্ত মাছ ধরার কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে আদরের পাখিটির অস্তিত্বই এখন প্রশ্নের মুখে।
আইইউসিএন ২০২৬ সালে সম্রাট পেঙ্গুইনকে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের গবেষণা বলছে, বর্তমান উষ্ণায়নের ধারা অব্যাহত থাকলে এই শতাব্দীর শেষে ৯০ শতাংশেরও বেশি সম্রাট পেঙ্গুইন কলোনি কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
আফ্রিকান পেঙ্গুইন তিন দশকে কমেছে ৬৫ শতাংশ
দক্ষিণ নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে বসবাসকারী আফ্রিকান পেঙ্গুইন বা কালো পায়ের পেঙ্গুইনের অবস্থা আরও নাজুক। বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সাল থেকে এই প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৬৫ শতাংশ কমে গেছে। জ্বালানি উত্তোলন, খনিকাজ, অতিরিক্ত মাছ ধরা ও সামুদ্রিক সম্পদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এই পতনের মূল কারণ।
উড়তে না পারলেও জলে অসাধারণ পেঙ্গুইন
পেঙ্গুইন উড়তে পারে না, তবে পানির নিচে এরা অসাধারণ। ফাঁপা না হয়ে ঘন ও শক্ত হাড় থাকায় পানিতে ভাসার প্রবণতা কম এবং সাঁতার কাটা সহজ হয়। ডানা রূপান্তরিত হয়ে হয়েছে শক্তিশালী ফ্লিপার। পুচ্ছের কাছের বিশেষ গ্রন্থি থেকে তেল নিয়ে তারা পালকে জলরোধী আবরণ তৈরি করে নেয়। স্থলেও এরা শক্তিশালী, লম্বা পথ হেঁটে পাড়ি দিতে পারে প্রজনন এলাকায়।
সমুদ্রে লেপার্ড সিল ও অর্কার মতো শিকারি থেকে বাঁচতে পেঙ্গুইন কাউন্টারশেডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে। পিঠ কালো ও পেট সাদা হওয়ায় উপর ও নিচ দুই দিক থেকেই শিকারির চোখ ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়। কিন্তু মানুষের তৈরি সমস্যাগুলো এড়ানো তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সামুদ্রিক দূষণ, তেল ছড়িয়ে পড়া এবং সার্ডিন ও অ্যাঙ্কোভির মতো মাছ অতিরিক্ত ধরা পেঙ্গুইনের খাদ্যসংকট ও বাসস্থান ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৫৯ সালের অ্যান্টার্কটিক চুক্তির আওতায় পেঙ্গুইন শিকার ও ডিম সংগ্রহে আইনি সুরক্ষা আছে, তবু চাপ কমছে না। ২০২২ ও ২০২৩ সালে অ্যান্টার্কটিকায় সমুদ্রের বরফ রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় সম্রাট পেঙ্গুইনের ব্যাপক প্রজনন ব্যর্থতা দেখা গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
সূত্র: দ্যা ন্যাশন

