পূর্বপরিকল্পনা থেকে সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর ওপর ইরান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ।
তিনি দাবি করেন, তেহরানের হামলা প্রমাণ করে এটি কোনো ক্ষণস্থায়ী প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এর তীব্রতা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) আটলান্টিস দ্য পাম দুবাইতে শুরু হওয়া ‘গালফ ক্রিয়েটরস’-এর ‘উত্তেজনার সময়ে জোটের পুনর্মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
গারগাশ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধ এড়াতে কাজ করেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়ে একটি অলিখিত বোঝাপড়া বজায় রেখেছিল। তবে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ইরানের আগ্রাসন ছিল পরিকল্পিত, কোনো স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া নয়। তিনি আরও বলেন, ইরানের প্রতি ‘নিয়ন্ত্রণ নীতি’র ব্যর্থতার পর এই অঞ্চল এখন একটি পুনর্মূল্যায়নের মুখোমুখি।
এই কূটনৈতিক বলেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলো একে অপরকে রসদ সরবরাহে সহায়তা করলেও, রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ছিল। সত্যি বলতে, আরব লীগের দুর্বলতায় আমি অবাক হইনি, কিন্তু যা আমাকে অবাক করেছে তা হলো উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান। উপসাগরীয় বয়ানকে অবশ্যই সতর্ক ও আপোষমূলক সুর থেকে বেরিয়ে এসে আরও বাস্তবসম্মত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলটি যুদ্ধের পরিণতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থেকে দুই দশক ধরে একটি সমাধান খুঁজছে। আমরা এমন একটি রাজনৈতিক সমাধান চাই যা সকল দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।
গারগাশ সতর্ক করে বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা সত্ত্বেও একটি পরাশক্তির মতো আচরণ করছে এবং তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি তারা তা অর্জন করে তবে পরিস্থিতি কীভাবে মোড় নিতে পারে। তিনি দাবি করেন, চলমান সংকট একটি গভীর আস্থার ঘাটতি তৈরি করেছে যা কয়েক দশক ধরে স্থায়ী হতে পারে। যদিও সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার হতে পারে, তবে আস্থা পুনর্নির্মাণে যথেষ্ট সময় লাগবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের যেকোনো পুনর্মূল্যায়ন আবেগপ্রবণ না হয়ে যৌক্তিক হবে, কারণ আগ্রাসনের পরের পরিস্থিতি তার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে না।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ।

