ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম উত্তেজনার মাঝেই তিন দিনব্যাপী বড় আকারের পরমাণু অস্ত্র মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া। আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন হাজার হাজার রুশ সেনা। ঠিক এমন এক সময়ে মস্কো এই শক্তির জানান দিচ্ছে, যখন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলমান এই মহড়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসন বা হুমকির মুখে পরমাণু শক্তির দ্রুত মোতায়েন এবং এর ব্যবহার নিশ্চিত করা। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাশিয়ার সর্বশেষ পরমাণু চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হওয়ার পর দুই দেশের পরমাণু অস্ত্রাগারের ওপর থাকা সব ধরনের আইনি বাধ্যবাধকতা উঠে গেছে। এর পরপরই রাশিয়া এই বড় পদক্ষেপ নিল।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মহড়ায় ৬৫ হাজারেরও বেশি সামরিক কর্মী, প্রায় ৭ হাজার ৮০০টি সামরিক সরঞ্জাম এবং দুই শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান অংশ নিচ্ছে। এছাড়াও আকাশসীমা ও সমুদ্রে মহড়া সচল রাখতে যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও পরমাণু চালিত সাবমেরিনকে যুক্ত করা হয়েছে। এই রণপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাশিয়া বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও চালাবে। পাশাপাশি মিত্র দেশ বেলারুশের ভূখণ্ডে মোতায়েন করা পরমাণু অস্ত্রের যৌথ ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণের বিষয়টিও এই মহড়ায় অন্তর্ভুক্ত থাকছে। ইতোমধ্যে বেলারুশে রাশিয়ার অত্যাধুনিক ‘ওরেসনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ।
এদিকে চীন সফরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন এই মহড়ার ঘোষণা দেন। তবে বেইজিং পৌঁছানোর আগে এক ভাষণে পুতিন স্পষ্ট করেছেন, মস্কো এবং বেইজিং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে জোট বাঁধছে না, বরং বিশ্বশান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ করছে। রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে দুই দেশের গভীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই মহড়ার আবহেই গত সপ্তাহে রাশিয়া তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু সক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সারমাত’ এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। পুতিন দাবি করেছেন, ৩৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি একই সাথে একাধিক পরমাণু ওয়ারহেড বহন করতে পারে এবং এটি বিশ্বের যেকোনো আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনায়াসে ফাঁকি দিতে সক্ষম। ক্রেমলিন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই বিধ্বংসী সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম রেজিমেন্টটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক মোতায়েনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে।

