নিউজিল্যান্ডের ফ্রাঞ্চ্যাইজি মালিকানাধীন(এনজেড২০) লিগের প্রথম আসর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আয়োকদের আশা, আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে মিল রেখে আগামী বছরের ডিসেম্বরে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হওয়ার আশা করছেন তারা।
এর আগে আগামী বছরের জানুয়ারিতে এনজেড২০ লিগ শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছিল আয়োজকরা।
সোমবার(১১ মে) এক বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি) জানিয়েছে, প্রস্তাবিত লাইসেন্স প্রদান এবং নতুন লিগটি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে, সকল পক্ষের সঙ্গ ঘনিষ্ঠভাবে ও গঠনমূলকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
সেই আলোচনার ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে লিগটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু ‘এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিযোগিতাটি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে আরও অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
টুর্নামেন্টে পিছিয়ে নেওয়ার কারণ হিসেবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কিউইদের টেস্ট সিরিজ রয়েছে। এতে এনজেড২০ লিগের উদ্বোধনের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
এনজেডসি চেয়ার ডায়ানা পুকেতাপু-লিন্ডন বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যেন টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক এবং বিশ্ব ক্রিকেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তা নিশ্চিত করা। আমরা এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছি এবং এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি হয়েছে তাতে আমরা উৎসাহিত। এখন অতিরিক্ত সময় নিলে তা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতাটিকে সফল করার জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে।
এরই মধ্যে এনজেড২০ ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য তাদের সুপার স্ম্যাশ প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার এবং ভারত ও শ্রীলঙ্কার পুরুষ এবং বাংলাদেশের নারী দলের আসন্ন সফর আয়োজনের ব্যবস্থা করবে। পুকেতাপু-লিন্ডন যেমনটা বলেছেন, পরিকল্পনাটি হলো প্রতিযোগিতাটিকে যথাসম্ভব শক্তিশালী করে তোলা, কোনো অপরিপক্ক প্রচেষ্টা নয়।
এনজেড২০ প্রতিষ্ঠা কমিটির চেয়ারম্যান ডন ম্যাকিনন বলেন, এনজেড২০-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে আমরা শক্তিশালী অগ্রগতি করেছি এবং নিউজিল্যান্ড ও আন্তর্জাতিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে এনজেড২০ কোনো আপস ছাড়াই চালু হবে এবং প্রথম দিন থেকেই দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য প্রস্তুত থাকবে। প্রতিযোগিতাটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিরুদ্ধে নয়, বরং এর পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সূচি এখন নিশ্চিত হওয়ায় ২০২৭ সালের জন্য সময়সীমা খুবই সীমিত। এই সংশোধিত সময়সীমা আমাদের একটি বিশ্বমানের প্রতিযোগিতা গড়ে তোলার সেরা সুযোগ করে দেবে, যা নিয়ে নিউজিল্যান্ডবাসীরা গর্ব করতে পারবে এবং যা ভক্তদের প্রাপ্য।
ম্যাকিনন বলেন, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ উৎসাহব্যঞ্জক ছিল, যা এনজেড২০-কে একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে উৎসাহিত করেছে।
ম্যাকিনন বলেন, এনজেডসি-র জন্য এনজেড২০-কে পছন্দের বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত করার পর থেকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, এতে লিগের প্রধান বিনিয়োগ অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিকানা চিহ্নিত করার জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এনজেড২০ লিগে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ভারতসহ কয়েকটি দেশের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এমনকি খেলোয়াড়দের জন্য মালিকানার শেয়ার রাখার ভাবনাও রয়েছে আয়োজকদের।

