‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কখনোই সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়’

0
‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কখনোই সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়’

সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ড্রোন হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কখনোই সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়। একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এমন হামলা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক নিউক্লিয়ার এনার্জি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া কর্সনিক এসব কথা বলেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমিরাতের বারাকাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থা অক্ষত রয়েছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, হামলায় কেবল একটি বিকল্প বিদ্যুৎ জেনারেটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চুল্লির কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি এবং তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর ঘটনাও ঘটেনি।

ভারতের নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের শিল্প প্রতিনিধি দলের সফরের ফাঁকে এক সাক্ষাৎকারে কর্সনিক বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। বাণিজ্যিক পারমাণবিক স্থাপনাকে অবশ্যই সংঘাতের বাইরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংযম ও নীতিমালা জরুরি।

ঘটনাটি ঘটে আবুধাবির আল দাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরের অংশে। ড্রোন হামলায় আগুন লাগলেও কোনো হতাহত হয়নি। আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্বাভাবিকভাবেই চালু রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় জ্বালানি অবকাঠামো হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে। ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোও একই ধরনের উদ্বেগের উদাহরণ।

দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় নির্মিত বারাকাহ কেন্দ্রটি ২০২০ সাল থেকে চালু রয়েছে এবং এটি আমিরাতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-চতুর্থাংশ সরবরাহ করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here