পানামার রক্ষণ ভাঙতে ইংল্যান্ডকে কৌশল বদলাতে হবে

0
পানামার রক্ষণ ভাঙতে ইংল্যান্ডকে কৌশল বদলাতে হবে

ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ইংল্যান্ডকে শুধু দুই পয়েন্টই হারায়নি, সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেটাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। দলটি বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও বিপক্ষ দলের রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় কাজ হবে এমন রক্ষণ ভাঙার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করা।

ইংল্যান্ড নারী দলের সাবেক কোচ এমা হেইস মনে করেন, ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল আক্রমণে তাড়না ও বৈচিত্র্যের অভাব। তার মতে, প্রতিপক্ষ যখন নিজেদের অর্ধে নেমে গিয়ে রক্ষণভাগ শক্তিশালি করে , তখন শুধু বল দখলে রাখলেই হয় না; খেলতে হয় আরও দ্রুত, আরও সৃজনশীল এবং সাহসী ফুটবল।

হেইস বলেন, ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ড অনেক দেরিতে ম্যাচের গতি বাড়িয়েছে। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শুরু থেকেই প্রতিটি আক্রমণে আরও গতি থাকতে হয়। একই ধরনের রক্ষণাত্মক কৌশল পানামাও অনুসরণ করতে পারে বলে তার ধারণা।

তার মতে, ধৈর্য ধরে খেলতে হবে ঠিকই, তবে সেই ধৈর্য যেন ধীরগতির ফুটবলে পরিণত না হয়। আক্রমণের সময় খেলোয়াড়দের ক্রমাগত অবস্থান পরিবর্তন, ফাঁকা জায়গা তৈরি এবং ছোট ছোট পাসের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের একটি ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে একটি দল প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙেছিল লম্বা ক্রসের বদলে দ্রুত ছোট পাসের সমন্বয়ে। হেইসের মতে, একই ধরনের ধৈর্যশীল কিন্তু দ্রুতগতির ফুটবলই ইংল্যান্ডের প্রয়োজন।

ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের খেলায় আরেকটি বড় সমস্যা ছিল খেলোয়াড়দের সীমিত নড়াচড়া। অনেক সময় তারা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিপক্ষের জন্য রক্ষণ সামলানো সহজ হয়ে যায়। ফলে আক্রমণের ধরনও হয়ে ওঠে একঘেয়ে।

হেইসের মতে, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের আরও বেশি দৌড়াতে হবে, ফাঁকা জায়গায় ঢুকতে হবে এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণকে নিজেদের অবস্থান থেকে সরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে পানামার বিপক্ষেও একই সমস্যায় পড়তে পারে ইংল্যান্ড।

তিনি মনে করেন, নিকো ও রাইলিকে শুরু থেকেই খেলানো হলে আক্রমণে আরও বৈচিত্র্য আসতে পারত। দূর থেকে নির্ভুল ক্রস এবং পিছন থেকে উঠে এসে আক্রমণে যোগ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে তার। ঘানার বিপক্ষে শেষ দিকে তার হেডে গোলের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল।

একই সঙ্গে মার্কাস রাশফোর্ডকে আরও আগে মাঠে নামানোর পক্ষেও মত দিয়েছেন হেইস। তার মতে, একের বিপক্ষে এক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার মতো সাহসী খেলোয়াড়ের অভাব ছিল ইংল্যান্ডের। এমন ম্যাচে একজন সৃজনশীল ফুটবলারের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

তবে একটি ম্যাচের ফল দেখে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, একটি ম্যাচ জিতলেই ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের নিশ্চিত চ্যাম্পিয়ন বলা হয়, আবার ড্র করলেই ব্যর্থ বলে ঘোষণা করা হয়। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

হেইস মনে করিয়ে দেন, গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল ঘানা এবং তারা নিজেদের প্রাপ্য এক পয়েন্টই অর্জন করেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও চার পয়েন্ট নিয়ে এখনো গ্রুপের ভালো অবস্থানেই রয়েছে।

তার মতে, কোচ টমাস টুখেলের মূল লক্ষ্য এখনো অপরিবর্তিত প্রথমে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাওয়া, এরপর গ্রুপসেরা হওয়া। সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে ইংল্যান্ড এখনো ঠিক পথেই আছে।

হেইস আরও বলেন, বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একটি ড্রয়ের পর দলকে শান্ত রাখা এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাই তাদের দায়িত্ব। অভিজ্ঞতার কারণেই ঘানার ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষায় হতাশার বদলে স্থিরতা দেখা গেছে।

তার বিশ্বাস, পানামার বিপক্ষে ম্যাচই হবে ঘানার বিপক্ষে করা ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার আদর্শ সুযোগ। একই ধরনের রক্ষণভাগের বিপক্ষে এবার যদি ইংল্যান্ড নিজেদের আক্রমণে আরও গতি, বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতা যোগ করতে পারে, তাহলে নকআউট পর্বের আগে তারা নিজেদের প্রস্তুতিও আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here