সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানের সামনে বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান তুলে সফরকারীদের জয়ের জন্য ৪৩৭ রানের টার্গেট দিয়েছে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের হয়ে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের ১৩৭ রানের ইনিংসেই বড় সংগ্রহ গড়ে তোলে টাইগাররা। প্রথম ইনিংসেও দারুণ ব্যাট করা লিটন দাস দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন গুরুত্বপূর্ণ ৬৯ রানের ইনিংস।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লিড ছিল ৪৬ রান। সেই সুবাদে দ্বিতীয় ইনিংসের ৩৯০ রান যোগ হয়ে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্য।
এই লক্ষ্য টপকাতে পারলে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে পাকিস্তানকে। কারণ টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটি রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে।
এর আগে, ১৫৬ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিন ১৩ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ক্রিজে নামেন মুশফিকুর রহিম। তবে দিনের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ১৫ রান করে ফেরেন শান্ত।
এরপর মুশফিকের সঙ্গে জুটি গড়েন লিটন দাস। দুজনে মিলে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। ৪১তম ওভারে লিটনের সিঙ্গেলে বাংলাদেশের লিড ২০০ ছাড়ায়। প্রথম সেশন শেষে এই জুটির অবিচ্ছিন্ন সংগ্রহ ছিল ৮৮ রান।
লাঞ্চের পর নিজের ২০তম টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন। এই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবার সর্বোচ্চ রান করার কীর্তি গড়েন তিনি। প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৬৯ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে তার মোট রান দাঁড়ায় ১৯৫।
অন্য প্রান্তে ধৈর্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম। ১৭৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ইনিংসজুড়ে ৯টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। এটি ছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি, যা বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ।
শেষ পর্যন্ত ২৩৩ বলে ১৩৭ রান করে আউট হন মুশফিক। ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসেও টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তিনি। সিরিজের প্রথম টেস্টের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাট হাতে ছিলেন উজ্জ্বল।
মুশফিককে শেষদিকে ভালো সঙ্গ দেন তাইজুল ইসলাম। ৫১ বলে ২২ রান করেন তিনি। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ৬ এবং শরিফুল ইসলাম ১২ রান যোগ করেন।

