পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনটি আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যেখানে সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ডাম্পিং স্টেশন থাকলেও প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন সত্ত্বেও তা কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। ফলে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।
তারা আরও বলেন, উন্নত দেশে যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ৩০-৪০ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে তা ৫ শতাংশেরও নিচে। তাই পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত নীতি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যথাযথ নজরদারি ও সমন্বয়ের অভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পাচ্ছে না। তারা রিসাইক্লিং ব্যবস্থা জোরদার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু এবং পরিবেশবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানান।
তারা আরও উল্লেখ করেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও উন্মুক্ত স্থানে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাড়াতে হবে, যাতে তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কমানো যায়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন। বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর মাজেদুল ইসলাম, সনাকের জেলা সভাপতি সাংবাদিক অ্যাডভোকেট আবদুন নুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আরজু, তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, বিডি ক্লিন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিনিধি সোহান মাহমুদসহ অন্যরা।
এ সময় পরিবেশ সুরক্ষায় ১২ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- ক্ষতিকর প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, এবং শহর ও গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ।

