পঞ্চগড়ে টমেটো চাষিদের হাহাকার, বিদেশি টমেটো আমদানি বন্ধের দাবি

0
পঞ্চগড়ে টমেটো চাষিদের হাহাকার, বিদেশি টমেটো আমদানি বন্ধের দাবি

পঞ্চগড়ে বিদেশি টমেটো আমদানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন টমেটো চাষি ও ব্যবসায়ীরা। বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার গলেহা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক কৃষক ও ব্যবসায়ী অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ স্থানীয় টমেটো মজুত থাকা সত্ত্বেও একটি সিন্ডিকেট বিদেশ থেকে টমেটো আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এ খবরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা টমেটো কেনা বন্ধ করে দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

চাষিদের দাবি, পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে যে পরিমাণ টমেটো রয়েছে, তা দিয়েই আরও অন্তত দুই মাস দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব। এ অবস্থায় আমদানি শুরু হলে স্থানীয় বাজার ধসে পড়বে এবং কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন।

মানববন্ধনে টমেটো চাষি আব্দুর রশিদ, মিজানুর রহমান, আইনুল হক, সোহেল রানা, ফারুখ হোসেন ও রফিক হোসেন বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, কয়েকদিন আগেও তারা প্রতি মণ টমেটো ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। কিন্তু আমদানির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবসায়ীরা আর টমেটো কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাদের আশঙ্কা, বিদেশি টমেটো এলে দাম আরও কমে যাবে এবং মজুত করা টমেটো বিক্রি করে লোকসান গুনতে হবে।

চাষিরা জানান, বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেতেই টমেটো নষ্ট হতে শুরু করেছে। এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি বাবদ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রতি বিঘায় দেড়শ থেকে ২০০ মণ টমেটো উৎপাদনের আশা ছিল। তবে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে উৎপাদনেও ক্ষতি হয়েছে।

তবে কৃষকরা জানান, এ বছর বাজারদর তুলনামূলক ভালো ছিল। বর্তমানে প্রতি মণ টমেটো ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। গত বছর অনেক কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে ক্ষেতেই টমেটো ফেলে রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, সৈয়দপুর, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা পঞ্চগড়ে এসে টমেটো কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন। এসব টমেটো ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, ফেনী ও বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পঞ্চগড়ের টমেটো স্বাদ ও গুণগত মানে অনন্য হওয়ায় এর চাহিদা ব্যাপক। জুলাই মাস পর্যন্ত এ জেলার টমেটো দিয়েই দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই এ সময়ে টমেটো আমদানির কোনো যৌক্তিকতা নেই।

পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭৭৮ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সদর উপজেলায়। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি টমেটো আমদানির জন্য এলসি খোলা হলে স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here