হয়তো একটা বিশ্বরেকর্ড, নয়তো একটা জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে দেশের আমলাতন্ত্রের আঁতুড়ঘর সচিবালয়ে। একজন সচিব এক নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে সাসপেন্ড করে দেন তাঁকে। দুই দিন বাদেই সেই প্রকৌশলী চিঠি হাঁকেন প্রতিমন্ত্রী বরাবর। সাত দিন বাদে আবার সেই সচিবই আরেক প্রজ্ঞাপন দিয়ে বলেন, দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি, বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার ও তাঁকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হলো।
আমলাতন্ত্রের ফাঁদ, লালফিতার দৌরাত্ম্য—এই শব্দবন্ধগুলো এ দেশে বহুল ব্যবহৃত। সরকারি দপ্তরগুলোয় কাজের কচ্ছপগতি বোঝাতে এসব শব্দ চলে আসছে। দেশের আমলাতন্ত্রে কোনো কাজই যে ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ ছাড়া গতি পায় না, তা মোটামুটি বিশ্ববিদিত। এই অবস্থায় ওপরের ঘটনাটি ‘বিশেষ কেরামতি’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তবিবুর রহমান তালুকদারকে চলতি মাসের ৯ তারিখে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান। প্রজ্ঞাপনে সচিব স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, ওই নির্বাহী প্রকৌশলী ও জনস্বাস্থ্যের দুটি বড় প্রকল্পের পরিচালক মো. তবিবুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে ‘স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।’
প্রজ্ঞাপনের শেষে যথারীতি লেখা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।’ কিন্তু সচিবের এই জনস্বার্থের আদেশটি টিকতে পেরেছে মাত্র ১১ দিন। নিজেদের তদন্তকে মিথ্যা ও তবিবুর তালুকদারকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সময় লেগেছে মাত্র সাত কর্মদিবস।
নথি ঘেঁটে দেখা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী তবিবুর তালুকদার দুই দিন বাদেই ১২ এপ্রিল সাজা বিবেচনার আর্জি জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পুনঃ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং আমি যে নির্দোষ তা প্রমাণিত হবে।’
আবেদনে তাঁর ওপর দায়িত্ব দেওয়া বড় প্রকল্প দুটির কথা উল্লেখ করে তবিবুর তালুকদার আরো যা লেখেন তা হুবহু এ রকম : ‘এমতাবস্থায় উপর্যুক্ত বিষয়সমূহ মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আমার ওপর আরোপিত সাময়িক বরখাস্তের আদেশটি রহিত করে পুনঃ তদন্তের মাধ্যমে পর্যালোচনা করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হলো।’
এই আবেদনের একদম ওপরে কলম দিয়ে হাতে লেখা একটি নির্দেশ : ‘সচিব, এলজিইডি; জরুরিভিত্তিতে আলোচনা করুন।’ লেখাটির নিচে একটি স্বাক্ষর, তার নিচে ওই দিনের তারিখ ১২-৪-২৬। তারও নিচে সিল দেওয়া—মীর শাহে আলম এমপি; প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
আর আবেদনপত্রটির একদম নিচে কলমের কালিতে আরেকটি হাতে লেখা এ রকম : ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সহিত আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আলোচনা করুন।’
এই হাতে লেখাটির নিচে স্বাক্ষর; তার নিচে একই তারিখ; তার নিচে সিল মারা : মো. শহীদুল হাসান; সচিব; স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এরপর একই সচিব মো. শহীদুল হাসান স্বাক্ষরিত গত বুধবার, ২২ এপ্রিলে জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বাস্থ্যের ওই নির্বাহী প্রকৌশলী তবিবুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে ‘স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক দায়েরকৃত বিভাগীয় মামলা নং- ০১/২০২৬-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) অনুসারে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।’
এরপর তাঁর সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা এবং ওই দুটি প্রকল্পের পরিচালক পদে পুনর্বহাল করার কথা বলা হয়। ‘তাঁর বরখাস্তকালীন সময়কে কর্মকাল হিসেবে গণ্য করা হবে’—এ কথাও প্রজ্ঞাপনে লেখা হয়। সব শেষে যথারীতি এখানেও লেখা হয়, ‘জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।’
গত পরশু এই আদেশ জারির পর গতকাল জনস্বাস্থ্যের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী তবিবুরের পক্ষের লোকজনকে মিষ্টি খাওয়াখাওয়ি করতে দেখা যায়।
তবে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা গতকাল বলেছেন, তবিবুর রহমানই একমাত্র কর্মকর্তা, যিনি অবিশ্বাস্য দ্রুত সময়ে তদন্তের মধ্য দিয়ে ‘পবিত্র’ হয়ে আবার নিজ পদে পুনর্বহাল হয়েছেন।
ওই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি আমরা অনেক অনুসন্ধান করেও কোথাও পাইনি। এমনকি কখন তদন্ত কমিটি গঠন হলো, সেই কমিটি কখন কিভাবে কাজ করল—এসব প্রশ্নেও অধিদপ্তরের কেউ কিছুই জানেন না বলে বলেছেন। কর্মকর্তারাও ধারণা করছেন, এ ধরনের কোনো তদন্তই আদতে হয়নি।
দুটি প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রথমটিতে তবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত হয়। সাত কর্মদিবস পর জারি করা দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা (নম্বর ০১/২০২৬) দায়েরের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এখানে মামলার তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়ার কাছে প্রসঙ্গটি তুললে তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় মামলা হয়ে থাকলে প্রজ্ঞাপনে সেটির তারিখ উল্লেখ থাকা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে তারিখ উল্লেখ না থাকাটা রহস্যজনক।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ৯ এপ্রিল তবিবুরকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়; ১২ এপ্রিল তিনি প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। যদি এই ফাঁকে মামলাটি হয়েই যায়, তাহলে বিধি অনুযায়ী তখন তাঁর আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আর যদি মামলাটি তাঁর আবেদনের পর দায়ের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নিষ্পত্তি হয়েছে কখন, এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়।
পঞ্জিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, ১২ থেকে ২২ এপ্রিলের মধ্যে কর্মদিবস ছিল সাতটি। এই সাত দিনের মধ্যে একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের, তা তদন্ত করে নির্দোষ প্রমাণ করে ফেলার ঘটনা রহস্যজনক।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার বা পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করার যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি সরকারি কর্মচারী আচরণবিধিমালার পরিপন্থী। সরাসরি তিনি প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করতে পারেন না। এই কাজের জন্য সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা-১৯৭৯-এর আলোকে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সুযোগ আছে।
এই বিধিমালা ঘেঁটে দেখা যায়, এর ২০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁর পক্ষে কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য কোনো সংসদ সদস্য বা অসরকারি ব্যক্তির দ্বারস্থ হবেন না।’
ফিরোজ মিয়া আরো বলেন, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হলে সেটি যথাযথ ধাপ অনুসরণ করে মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আপিলের সুযোগ নেই। এখন দেখতে হবে, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার ধাপগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না। তবে মাত্র সাত কর্মদিবসের মধ্যে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি এবং তাঁকে নির্দোষ প্রমাণিত করার ঘটনাটি অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এত দ্রুত বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তির নজির নেই।
জনস্বাস্থ্যের প্রধান প্রকৌশলীকে গতকাল একাধিকবার ফোন ও এসএমএস দিলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) এহতেশামুল রাসেল খানকে ফোন করা হলে তিনি ধরেন কিন্তু এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিনি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নন।
তথ্য প্রদানকারী হিসেবে দায়িত্বরত উপপ্রকল্প পরিচালক মো. আনোয়ারুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরামর্শ দেন। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।
বক্তব্য জানতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানকে গতকাল ফোন করা হলে তিনিও তা ধরেননি।
আর ঘটনার ‘নায়ক’ নির্বাহী প্রকৌশলী তবিবুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে গত রাতে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে কথা বলার আগ্রহ দেখালেও তিনি নিরুত্তর থাকেন। মিনিট বিশেক পর আবার চেষ্টা করলে ফোন ধরেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কথা স্বীকার করলেও সার্বিক বিষয়ে তিনি সরাসরি কথা বলতে চান। অভিযোগের বিষয়ে আপনার বক্তব্য আজ দরকার—এ কথা জানানো হলে তিনি বলেন, ‘এটা আপনার দরকার, আমার দরকার না।’ এ কথা বলেই নির্বাহী প্রকৌশলী তবিবুর ফোনকল
কেটে দেন।
যেখান থেকে শুরু : তবিবুর রহমান ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি (প্রথম সংশোধিত)’ ও ‘গ্রামীণ স্যানিটেশন’—এই দুটি প্রকল্পের পরিচালক। ১৯৯৯ সালের ২৫ জুলাই সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগদান করেন তিনি। এরপর গত ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর পদোন্নতি পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন।
জানা গেছে, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর উপসচিব মো. ইবাদত হোসেন স্বাক্ষরিত জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে তবিবুরকে গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এক হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা বাজেটের এই প্রকল্পে দেশের দুর্গম এলাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দুই লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি টুইনপিট ল্যাট্রিন ও প্রায় দুই হাজার কমিউনিটি টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবিবুরকে এই প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সময় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে। কারণ আগের প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তবিবুর। এটির বাস্তবায়ন এখনো শতভাগ শেষ হয়নি।
মাঠপর্যায়ে সরেজমিন অনুসন্ধান করে ওই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।। সরকারের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনেও প্রকল্পটিতে দুর্নীতি ও অর্থলোপাটের তথ্য উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রকল্পের টাকা লোপাট করেছেন তবিবুর রহমান। বেশির ভাগ কাজেই দরপত্রের স্পেসিফিকেশন মানা হয়নি। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৮০ শতাংশ পাবলিক টয়লেট এরই মধ্যে অব্যবহৃত, পরিত্যক্ত বলে জানা গেছে।
গত বছরের শেষদিকে প্রকাশিত আইএমইডির সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শনকৃত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নির্মিত ১৯টি টয়লেটের মধ্যে ১৭টি ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ অবস্থার কারণ পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য অর্থের জোগান না থাকা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব ও ফিটিংস চুরির ভয়। পরিদর্শনকৃত ১২২টির সব ল্যাট্রিনই স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী স্থাপন করা হয়নি।
তবিবুর রহমানকে নির্দোষ প্রমাণ করে প্রজ্ঞাপন জারির আগের দিন, অর্থ্যাৎ ২১ এপ্রিল তাঁর ওই প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের ১৩টি ইউনিয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান কাজটির বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখতে নির্দেশনা দিয়েছেন।’
তবিবুর রহমানের দুর্নীতি ঘিরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভেতরে আসলে কী চলছে, তা বোঝার উপায় নেই বাইরে থেকে। তবে ১৪, শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি, কাকরাইলের ষষ্ঠ তলায় গতকাল ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকে চলেছে মিষ্টি বিতরণ। তবিবুর রহমান নির্দোষ প্রমাণ হওয়ায় তাঁর পক্ষে বিভিন্ন কর্মকর্তার কক্ষে মিষ্টি পাঠানো হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে গেলে দেখা যায়, বিভিন্ন দপ্তরে কিছুটা গুমোট পরিস্থিতি। চলছে ব্যাপক কানাঘুষা। অনেক কর্মকর্তা মিষ্টি খেতে খেতেই তবিবুরের ফিরে আসার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, তবিবুর রহমান পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সঙ্গেও যুক্ত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও তিনি রহস্যজনকভাবে প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে বহাল তবিয়তে ছিলেন। সেই অবস্থা অপরিবর্তিত আছে এখনো।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

