পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সহিংস ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে গতকাল বুধবার রাতে উত্তর চব্বিশ পরগনায় বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী দল বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডকে ‘ঠাণ্ডা মাথার খুন’ বলে অভিহিত করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে দাবি করেন। শুভেন্দু বলেন, ঘাতকরা এই হামলা চালানোর আগে দীর্ঘক্ষণ এলাকাটি ‘রেকি’ বা পর্যবেক্ষণ করেছিল।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোলতলা এলাকায় মোটর সাইকেলে আসা একদল দুষ্কৃতী চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি থামিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়, যা গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত তাকে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। যেভাবে হামলাটি চালানো হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে ঘাতকরা আগে থেকেই সব পরিকল্পনা করে রেখেছিল। তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় তিনি সরাসরি কোনো সংগঠনের নাম নেননি।
দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, বিজেপি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চায় না। তিনি চান পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করুক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে।
শুভেন্দুর দাবি, যখন তিনি হাসপাতালে সতীর্থের খোঁজ নিচ্ছিলেন, সেই সময়েই বসিরহাটে এক কর্মীকে গুলি করা হয়েছে এবং বরাহনগর এলাকায় অন্য এক কর্মীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। রাজ্যের এই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ইতোমধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় নেতা নীতিন নবীনের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
এদিকে, পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানিয়েছেন, অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি ইতোমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তে দেখা গেছে, গাড়িটির নম্বর প্লেট বিকৃত করা ছিল। যে নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি মূলত শিলিগুড়ির একটি গাড়ির, যা অপরাধীরা ভুয়া হিসেবে ব্যবহার করেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু ব্যবহৃত খোল এবং তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এর সূত্র অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে চন্দ্রনাথ রথ যখন মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন, তখন আততায়ীরা তার গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এরপর অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিতে চন্দ্রনাথের পাশাপাশি তাঁর গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরাও গুরুতর আহত হন।
হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, চন্দ্রনাথকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরে দুটি গুলি লাগে। একটি গুলি তার বুক দিয়ে ঢুকে হৃদপিণ্ড ফুটো করে দেয় এবং অন্যটি পেটে লাগে। অন্যদিকে, চালক বুদ্ধদেবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি।

