নায়িকা বলে সারাক্ষণ পুতুলের মতো সেজেগুজে থাকা ভালো লাগে না: তুষি

0
নায়িকা বলে সারাক্ষণ পুতুলের মতো সেজেগুজে থাকা ভালো লাগে না: তুষি

শোবিজ তারকাদের ঝলমলে জীবনের আড়ালে প্রতিনিয়ত জমে থাকে এক অদৃশ্য মানসিক চাপ। সমাজ বা ভক্তদের তৈরি করে দেওয়া নির্দিষ্ট ফ্রেমের মধ্যে নিজেকে সব সময় নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করার এই চিরন্তন বাধ্যবাধকতা নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। 

ঈদুল আজহার বিশেষ একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিজীবন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে একেবারেই খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। ভার্চুয়াল দুনিয়ার ট্রোলিং আর নারীদের প্রতি সমাজের একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এখন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটিই চিরতরে ডিলিট করে দিতে চান।

অনুষ্ঠানের আলাপচারিতার একপর্যায়ে তুষির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি, পোশাক, লুক কিংবা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের যেসব নেতিবাচক মন্তব্য ও সমালোচনা আসে, সেগুলোকে তিনি আসলে কীভাবে দেখেন। এর জবাবে কোনো লুকোছাপা না করেই অভিনেত্রী বলেন, সত্যি কথা বলতে আমি ফেসবুকটা ডিলিট করে দিতে চাই। কারণ এই কাজ করতে গিয়ে অনেককিছুই আমার ভালো লাগে না। 

তুষির মতে, একজন অভিনেত্রী হওয়া মানেই সব সময় নির্দিষ্ট একটি ছাঁচে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে— এমন ধারণার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই একমত হতে পারেন না। তারকা তকমা মানেই যে সারাক্ষণ পুতুলের মতো সেজেগুজে থাকতে হবে, এই সামাজিক প্রত্যাশাটিকে তিনি এখন নিজের জন্য বড় বোঝা বলে মনে করছেন।

নিজের এই অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে তুষি আরও বলেন, আমি অভিনয় করি, মানুষ আমাকে অভিনেত্রী বা নায়িকা বলে। কিন্তু নায়িকাদের যে একটা নির্দিষ্টভাবে দেখতে হবে, সব সময় তৈরি হয়ে থাকতে হবে, পুতুলের মতো থাকতে হবে- এই বিষয়গুলো আমার ভালো লাগে না। এগুলো অনেকসময় বোঝা মনে হয়। তিনি জানান, নিজের ইচ্ছায় সাজতে বা নিজেকে উপস্থাপন করতে তার কোনো আপত্তি নেই। তবে সমাজের তৈরি করে দেওয়া প্রত্যাশা পূরণের জন্য সব সময় একইভাবে নিজেকে তুলে ধরার চাপ তিনি পছন্দ করেন না। 

তার ভাষায়, আমার যখন সাজতে ইচ্ছে করবে, আমি সাজব। সেটা একান্তই আমার নিজের ইচ্ছে হওয়া উচিত। কিন্তু অনেকসময় মনে হয়, মানুষ একজন নারীকে নির্দিষ্ট একটা ফ্রেমে দেখতে চায়।

কথা প্রসঙ্গে নারী ও পুরুষের প্রতি সমাজের ভিন্ন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও দ্বিচারিতার বিষয়টিও বেশ জোরের সঙ্গে তুলে ধরেন তুষি। তার মতে, নারীদের চেহারা, পোশাক ও উপস্থিতি নিয়ে সমাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে পরিমাণ বিচার-বিশ্লেষণ বা ব্যবচ্ছেদ করা হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে নারীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তুষি বলেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে মেয়েদের আরও বেশি কথা বলা উচিত। নিজের মতো থাকার আত্মবিশ্বাসটা গুরুত্বপূর্ণ। একটা ছেলেকে তো এত চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয় না। 

সবমিলিয়ে সমাজের চাপিয়ে দেওয়া গণ্ডি পেরিয়ে নিজের চেনা ছন্দের বাইরে শুধু একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বাঁচতে পারার স্বাধীনতাই এখন তুষির প্রধান চাওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here