ধানি জমিতে রঙিন আম চাষে বাজিমাত

0
ধানি জমিতে রঙিন আম চাষে বাজিমাত

কিউজাই, চিয়াংমাই, কিং অব চাকাপাত, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও বারি-৪। এগুলো দেশি-বিদেশি আমের জাত। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শিকারপুর গ্রামে ধানি জমিতে প্রথমবারের মতো এই আমের চাষ করে বাজিমাত করেছেন কৃষক সুরুজ মিয়া। তার বাগানে বসেছে রঙিন সব আমের মেলা। 

১১০ শতক মিশ্র ফল বাগানে আম ছাড়াও রয়েছে চায়না কমলা, কুল, মাল্টা, পেয়ারাসহ নানা জাতের ফল। এছাড়া তার বাড়ির উঠানের নার্সারিতে এসব ফলের চারা উৎপাদনের পর বিক্রি করছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শিকারপুর গ্রামের ধানের জমির মাঠ। জমির কোণে ডোবার পাড়ে অল্প উচ্চতার আমের বাগান। দখিনা বাতাসে দুলছে থোকায় থোকায় রঙিন আম। কোনো কোনো আমের ওজন কেজি ছাড়িয়েছে। সুরুজ মিয়া বাগান পরিষ্কার করছেন, এছাড়া পরিপক্ক ফল সংগ্রহ করছেন। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কৃষকরা বিস্ময় চোখে দেখছেন রঙিন আমের পসরা। এদিকে আম চাষে আগ্রহীরা তার বাড়ি থেকে চারা কিনে নিয়ে যান।

প্রতিবেশী কৃষক সফিউল্লাহ ও মো. খোকন বলেন, এমন জাতের আমের নাম আগে শুনিনি। ধানের জমিতে তিনি ফলের চাষ করেন। জমির কোণায় ডোবা করে তার পাড়ে আম চাষ করেছেন। প্রথমে এটা দেখে আমরা হাসাহাসি করেছি। এখন দেখলাম ভালো ফলন হয়েছে। আমরাও আগামীতে এই আমের চাষ করবো।

আম চাষি সুরুজ মিয়া বলেন, ইউটিবে ভিডিও দেখে আমের চাষ শুরু করি। ধানের জমিতে ডোবার পাড়ে আমের চারা লাগিয়েছি। প্রথমে অনেকে পাগলামি বললেও ভালো ফলন দেখে তারাও এখন চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারা আমার নার্সারিতে উৎপাদিত চারা নিয়ে লাগাচ্ছেন।

স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া বলেন, সুরুজ মিয়া প্রবাসে ছিলেন। তিনি একজন উদ্যমী কৃষক। তাকে আমরা ফল চাষে আগ্রহী করে তুলি। অন্য কৃষকদের ফল চাষের কথা বললে অনেকে বিরুপ মন্তব্য করেছেন। আমরা তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে গেছি। তিনি কুলসহ বিভিন্ন ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তার হাত ধরে শিকারপুর ফলের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আশা করছি এই গ্রামে কুলের সাথে আমসহ বিভিন্ন ফল চাষ আরও বাড়বে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here