কিক অফের রেশ কাটতে না কাটতেই গোল! ফুটবল বিশ্বকাপে এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না বললেই চলে। তবে বিশ্বমঞ্চের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, প্রথম ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোর কীর্তি আছে মোট পাঁচটি। যেখানে আজ পর্যন্ত দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখে শীর্ষে অবস্থান করছেন তুরস্কের হাকান সুকুর। ২০০২ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ম্যাচের বয়স যখন স্রেফ ১১ সেকেন্ড, তখনই লক্ষ্যভেদ করে ইতিহাস গড়েছিলেন এই তুর্কি স্ট্রাইকার।
সেই ম্যাচে ঘরের মাঠে প্রথমে কিক অফ করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের ঠিক সামনেই দারুণ দক্ষতায় বল কেড়ে নেন তুরস্কের ইলহান মানসিজ। তার বাড়ানো পাস থেকেই নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান সুকুর, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনো দ্রুততম গোল হিসেবে অমর হয়ে আছে।
সুকুরের এই অতিমানবীয় কীর্তির প্রায় ছয় দশক আগে ১৫ সেকেন্ডে গোল করে দ্রুততম রেকর্ডের মালিক ছিলেন ভাচলাভ মাসেক। ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই এই কীর্তি গড়েছিলেন তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার এই স্ট্রাইকার। মাসেক মূলত ভেঙেছিলেন জার্মানির আর্নেস্ট লেনারের রেকর্ড। তারও আগে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলা শুরুর ২৫ সেকেন্ডের মাথায় গোল করেছিলেন লেনার।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ৩০ সেকেন্ড বা তার চেয়ে কম সময়ে গোল করার বাকি দুটি ঘটনাও বেশ রোমাঞ্চকর। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে দিয়ে ম্যাচের ২৮ সেকেন্ডেই ইংল্যান্ডের পক্ষে জাল খুঁজে নিয়েছিলেন ব্রায়ান রবসন। আর এই তালিকায় সবশেষ সংযোজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিন্ট ডেম্পসি। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর ঠিক ৩০ সেকেন্ডে বল জালে পাঠিয়ে এই এলিট ক্লাবে নিজের নাম লেখান তিনি। বিশ্বমঞ্চের গতি আর রোমাঞ্চের গল্পে এই দ্রুততম গোলগুলো ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সবসময়ই এক বিশেষ আকর্ষণ।

