দোলনচাঁপার দোলে মোহিত প্রকৃতিপ্রেমী

0
দোলনচাঁপার দোলে মোহিত প্রকৃতিপ্রেমী

প্রকৃতিতে এখন বর্ষার আমেজ পুরোদমে। খাল-বিল, ডোবা-নালা আর পথ-প্রান্তর মেতেছে বর্ষার নতুন পানির উল্লাসে। আর এই বর্ষণমুখর প্রকৃতির রূপ আরও বাড়িয়ে দিতে মেতে উঠেছে ঋতুর অন্যতম অনুষঙ্গ ‘দোলনচাঁপা’। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অত্যন্ত প্রিয় এই ফুলটি এখন শুভ্রতার দোলা ছড়াচ্ছে প্রকৃতির বুকজুড়ে।

সম্প্রতি রংপুর সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ রোডের একটি বাড়ির সামনের ছোট্ট বাগানে দেখা মিলল এই অপরূপ ফুলের। দূর থেকেই বাতাসে ভেসে আসছিল এর মিষ্টি ও মনোহর সুবাস। যা মুগ্ধ করছে পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের। একই বাগানে দোলনচাঁপার পাশাপাশি নজর কাড়ছিল সাদা স্পাইডার লিলিও।

ফুলটি নিয়ে বাংলা একাডেমির সহপরিচালক এবং রংপুর পায়রাবন্দের বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না জানান, গাছটি দেখতে অনেকটা কলাবতী গাছের মতো এবং এর পাতাগুলো আদা পাতার সদৃশ। ফুলটি সাধারণত ধবধবে সাদা হলেও কখনো কখনো হলুদ বা লাল রঙেরও হয়ে থাকে। এর পাপড়ির গড়ন ঠিক যেন ডানা মেলে থাকা প্রজাপতি। 

তিনি আরও বলেন, ফুলের মিষ্টি গন্ধ অনেক দূর থেকে ভেসে আসে। ফুলটির রাইজোম (মাটির সমান্তরাল বা নিচের রূপান্তরিত কাণ্ড) হজমকারক, টনিক, উদ্দীপক এবং জ্বর উপশমে বেশ উপকারী। এছাড়া এর ফুল থেকে সুগন্ধি তৈরি করা যায়। গাছটি মূলত আংশিক ছায়া এবং ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে মাটি পছন্দ করে।

উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় দোলনচাঁপাকে বলা হয় হেডিচিয়াম করোনারিয়াম। ইংরেজিতে এর পরিচিতি ‘বাটারফ্লাই জিঞ্জার’, ‘হোয়াইট জিঞ্জার’ কিংবা ‘গারল্যান্ড ফ্লাওয়ার’ নামে।

বাঙালি সংস্কৃতি ও সাহিত্যে এই ফুলের স্থান বেশ গভীর। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থে দোলনচাঁপাকে নিয়ে চমৎকার সব পঙ্‌ক্তি পাওয়া যায়। যেমন ‘যেন দেবকুমারীর শুভ্র হাসি, ফুল হয়ে দোলে ধরায় আসি’ অথবা ‘দখিনার দোল্ লেগেছে দোলনচাপাঁয়’। এমনকি এই ফুলের সৌন্দর্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পঞ্চগড়-সান্তাহার রুটে চলাচলকারী একটি আন্তঃনগর ট্রেনের নামকরণ করা হয়েছে ‘দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here