দুই দিনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চুয়াল কোর্টে ৭৭৩টি মামলা নিষ্পত্তি এবং ২ হাজার ১৬৭টি মামলার শুনানি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে প্রতি সপ্তাহে বুধ ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত জানিয়ে গত ২১ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। এর পর বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ পরিচালিত হয়।
গণসংযোগ কর্মকর্তার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার আপিল বিভাগে ৯৫টি মামলার শুনানি ও ২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগে ৬১২টি মামলার শুনানি এবং ১৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। সব মিলিয়ে ওই দিন উভয় বিভাগে ৭০৭টি মামলার শুনানি ও ১৭৭টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে (চেম্বার জজ আদালতসহ) ১৮৯টি মামলার শুনানি ও ৯৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। হাইকোর্ট বিভাগে ১ হাজার ২৭১টি মামলার শুনানি এবং ৫০১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এদিন উভয় বিভাগে মোট ১ হাজার ৪৬০টি মামলার শুনানি ও ৫৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।
এদিকে, ভার্চুয়াল কোর্ট বন্ধের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন একদল আইনজীবী। সমাবেশ থেকে তারা বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে মঙ্গলবার থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ ছুটির সময় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে মামলার জট বাড়তে থাকে এবং জরুরি আইনি প্রতিকারের পথ সীমিত হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ৯ মে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ জারি করেন। পরদিন ১০ মে থেকে দেশে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হলে তা স্থায়ী আইনে পরিণত হয়।

