দুই জেলার সীমানায় পড়ে ১৪ বছরেও পুনর্নির্মিত হয়নি সেতুটি

0
দুই জেলার সীমানায় পড়ে ১৪ বছরেও পুনর্নির্মিত হয়নি সেতুটি

অবস্থান কোন জেলায়—এই টানাপোড়েনে কেটে গেছে দীর্ঘ ১৪ বছর। ফলে উপায়হীন মানুষ এখনো বিধ্বস্ত পাকা সেতুর ওপর কাঠের পাটাতন ও বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করছেন। এর ওপর দিয়েই প্রতিদিন পারাপার করছে স্কুল–মাদরাসার শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্য উৎপাদক ও ক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ।

একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দক্ষিণ বাইশারী এবং কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার উত্তর বড়বিল এলাকার হাজারো মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ পথেই যাতায়াত করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যে সেতুটি কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলাকে সংযুক্ত করেছে, সেই সেতুই এখন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অবহেলায় পড়ে আছে।

দুই পাড়ের বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড়বিলের আবুল হোসেন, বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল কবির, গর্জনিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফিরোজ আহমদ, বাইশারীর সাইফুল ইসলাম, কৃষক আবুল কালাম ও আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয়রা একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের উত্তর বড়বিল এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাইশারীর মাঝখান দিয়ে একটি পাহাড়ি ঝিরি প্রবাহিত হয়েছে। এই ঝিরিই দুই জেলার সীমানা নির্ধারণ করেছে।

১৯৯৬ সালে সরকারি উদ্যোগে ওই পাহাড়ি ঝিরির ওপর একটি আরসিসি সেতু নির্মাণ করা হয়। তবে কোন প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম জানান, ২০১২ সালের বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে সেতুটি ভেঙে পড়ে।

তিনি বলেন, এরপর বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, কোনো প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করলে সেখানে সঠিক অবস্থান উল্লেখ করতে হয়। আলোচিত সেতুটি দুই উপজেলার সীমানায় পড়েছে। এ কারণে পাকা অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে আমরা এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ফলে সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ আটকে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here