আধুনিক সময়ে অফিস বা বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা সাধারণ। কিন্তু এতে ধীরে ধীরে শরীরের ভঙ্গি খারাপ হয় এবং পিঠের ওপর চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে কোমরের নিচের অংশ, কাঁধ ও মেরুদণ্ডের আশপাশে ব্যথা দেখা দেয়।
তবে পিঠের ব্যথা কমানোর জন্য সবসময় ওষুধের উপর নির্ভর করতে হয় না। কিছু সহজ ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং নিয়মিত করলে ঘরে বসে অনেকটাই আরাম পাওয়া সম্ভব। এছাড়া এগুলোর জন্য আলাদা যন্ত্রপাতি বা বড় জায়গার প্রয়োজন নেই।
১. সিটেড স্পাইনাল টুইস্ট
চেয়ারে বসেই করা যায় এই ব্যায়ামটি। শরীরের ওপরের অংশ ধীরে একদিকে ঘোরালে মেরুদণ্ডে জমে থাকা টান কমতে শুরু করে। কিছুক্ষণ সেই অবস্থায় থাকলে পিঠের পেশি শিথিল হয় এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়। নিয়মিত করলে কোমরের ব্যথা কমে এবং ক্লান্তি দূর হয়।
২. ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ
বিড়াল-গরু স্ট্রেচ বা ক্যাট-কাউ যোগাসন মেরুদণ্ডকে সামনে ও পেছনে নড়াচড়া করিয়ে তার নমনীয়তা বাড়ায়। শ্বাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করলে পিঠের গভীর পেশিগুলো সক্রিয় হয় এবং দীর্ঘদিনের শক্ত ভাব ধীরে কমে আসে। নিয়মিত অনুশীলনে ভঙ্গিও উন্নত হয়।
৩. চাইল্ড পোজ
শিশুর ভঙ্গি বা চাইল্ড পোজ পিঠের পেশিকে সম্পূর্ণভাবে শিথিল করে। দীর্ঘক্ষণ বসার পর এই ভঙ্গিতে কিছু সময় কাটালে পিঠ, কাঁধ ও ঘাড়ের চাপ কমে। শরীর সামনের দিকে ঝুঁকালে মেরুদণ্ড স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং মানসিক প্রশান্তিও পাওয়া যায়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিয়মিত ব্যায়ামের সঙ্গে প্রতিদিনের জীবনযাত্রাতেও কিছু পরিবর্তন আনা। যেমন: প্রতিঘণ্টায় কয়েক মিনিট হাঁটা, সঠিক উচ্চতার চেয়ার ব্যবহার, কম্পিউটার স্ক্রিন চোখের সমান উচ্চতায় রাখা এবং পর্যাপ্ত পানিপান।
বিশেষজ্ঞরা মনে করান, পিঠের ব্যথা শুরু হলেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। নিয়মিত ব্যায়াম ও সচেতন জীবনযাত্রা দীর্ঘমেয়াদে পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তবে ব্যথা খুব বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

