পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বিভিন্ন পশুর হাটে কোরবানির গবাদিপশু উঠতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেচাকেনা জমে উঠতে শুরু করেছে। জেলার ১৩টি উপজেলার খামার ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবার চাহিদার তুলনায় বেশি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা জেলার চাহিদার তুলনায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৬১টি বেশি।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানায়, উৎপাদিত পশুর মধ্যে রয়েছে— ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরু (ষাঁড়, বলদ ও গাভী), ২৪৮টি মহিষ, ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি ছাগল, ১৩ হাজার ৭২৯টি ভেড়া এবং ১১টি দুম্বা। এসব পশুর বড় একটি অংশ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ অন্যান্য জেলায় পাঠানো হবে। এবার প্রায় ৬০০ কোটি টাকার পশু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জেলায় মোট ৬৮টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে কাহারোল, চিরিরবন্দর, ঘোড়াঘাট ও পার্বতীপুরের আমবাড়ী হাট উল্লেখযোগ্য।
খামারিরা জানান, এবার গোখাদ্য, ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে গত বছর যে গরু উৎপাদনে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল, এবার একই গরুর জন্য খরচ দাঁড়িয়েছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায়। এতে হাটে পশুর দাম নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম জানান, কোরবানির পশুর হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মহাসড়কের পাশে হাট বসানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৮টি নির্ধারিত হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৩৮টি মেডিকেল টিম কাজ করবে।

