ফুটবল দল নেই, কিন্তু উন্মাদনা থেমে নেই। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের দলকে না পেলেও এক রেফারিকে ঘিরেই নতুন করে উচ্ছ্বাসে মেতেছে চীনের ফুটবলপ্রেমীরা। আর সেই কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মা নিং।
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে চীনের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এই অভিজ্ঞ রেফারি। মাঠে কড়া মেজাজ, নির্ভুল সিদ্ধান্ত আর কার্ড দেখানোর জন্য আগে থেকেই পরিচিত তিনি। তবে এবার সেই পরিচিতিই তাকে এনে দিয়েছে নতুন এক জনপ্রিয়তা।
চীনের ঘরোয়া লিগে একসময় দর্শকদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল মা নিংকে। ২০১৫ সালের এক ম্যাচে ৯টি হলুদ ও ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর থেকেই তার নামের সঙ্গে জুড়ে যায় ‘কার্ড মাস্টার’ তকমা।
সময়ের সঙ্গে সেই সমালোচনাই এখন পরিণত হয়েছে গর্বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মা নিংকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা, মজার মন্তব্য আর সমর্থনের ঢেউ। কেউ লিখছেন, অন্যরা যেখানে নিজেদের দলের খেলা দেখে, সেখানে তারা দেখছেন তাদের রেফারি কতজনকে কার্ড দেখাচ্ছেন।
এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে পিছিয়ে নেই করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে লেনেভো, হাইসেন্সের মতো বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি করেছেন মা নিং। অল্প সময়েই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীর সংখ্যাও বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একসময় দেশের ফুটবল নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন। বিশ্বকাপে খেলা, আয়োজন করা এবং একদিন শিরোপা জেতা—এই তিন লক্ষ্য সামনে রেখেই এগোচ্ছিল দেশটি। তবে নানা কারণে সেই স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
তাই দল না থাকলেও হতাশায় ডুবে না থেকে নতুনভাবে আনন্দ খুঁজে নিয়েছে চীনের ফুটবলপ্রেমীরা। তাদের চোখ এখন মাঠে, তবে খেলোয়াড়দের দিকে নয়—রেফারি মা নিংয়ের পকেট থেকে বের হওয়া লাল আর হলুদ কার্ডের দিকেই।
সূত্র: সিএনএন

