তীব্র গরম আবহাওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা

0
তীব্র গরম আবহাওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা

আমরা সবাই প্রচণ্ড তাপদাহের ভেতর দিয়ে দিনাতিপাত করছি। সকলেরই এতে কষ্ট হচ্ছে কিন্তু বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে গেলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতা, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং হিট-স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। 

১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

•    তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করুন। 
•    অতিরিক্ত ঘাম হলে পানির পরিমাণ বাড়ান। 
•    ডাবের পানি, লেবুর শরবত (চিনি ছাড়া) বা ওরাল স্যালাইন প্রয়োজনে গ্রহণ করা যেতে পারে। 
•    কোমল পানীয় ও চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। 

২. রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করুন

•    গরমে ডিহাইড্রেশনের কারণে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যেতে পারে। 
•    অসুস্থতা, বমি বা ডায়রিয়া হলে আরও ঘন ঘন গ্লুকোজ পরীক্ষা করুন। 

৩. ওষুধ ও ইনসুলিন সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন

•    ইনসুলিন সরাসরি রোদে বা অতিরিক্ত গরমে রাখবেন না। 
•    সাধারণত ২–৮°সে তাপমাত্রায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয় (ফ্রিজারে নয়)। 
•    ব্যবহৃত ইনসুলিনও অতিরিক্ত তাপ থেকে দূরে রাখুন।

৪. রোদে বের হলে সতর্ক থাকুন

•    সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় বাইরে থাকা কমান। 
•    ছাতা, টুপি ও হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করুন। 

৫. খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা

•    পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূল খান। 
•    রাস্তার খোলা খাবার ও দূষিত পানি এড়িয়ে চলুন। 
•    খাবারের সময়সূচি বজায় রাখুন। 

৬. ব্যায়ামের সময় পরিবর্তন করুন

•    ভোরে বা সন্ধ্যায় হাঁটা বা ব্যায়াম করুন। 
•    প্রচণ্ড গরমে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। 

৭. পায়ের যত্ন নিন

•    খালি পায়ে হাঁটবেন না। 
•    প্রতিদিন পা পরীক্ষা করুন। 
•    ফোসকা, ক্ষত বা সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 
জরুরি লক্ষণ

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন :

•    অতিরিক্ত তৃষ্ণা 
•    মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়া 
•    বমি বা ডায়রিয়া 
•    অত্যধিক দুর্বলতা 
•    বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক আচরণ 
•    খুব বেশি বা খুব কম রক্তে শর্করা 

মোদ্দা কথা “গরমে পানি পান করুন, রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করুন, ইনসুলিন সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন এবং হিট-স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকুন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে গরমও নিরাপদে মোকাবিলা করা সম্ভব।”

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডক্রাইনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here