রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হলো সপ্তম ‘পেপারটেক এক্সপো-২০২৬’। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন পেপার মিলে উৎপাদিত কাগজ, কাগজের কাঁচামাল, পেপার মিলের যন্ত্র এবং ব্যাকওয়ার্ড ও ফরোয়ার্ড লিংকেজ প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি প্রদর্শিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও মাগুরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মহিউদ্দীন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই এক্সপো কাগজশিল্প এবং কাগজপণ্য প্রস্তুতকারকদের জন্য একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। এটি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে নতুন নতুন উদ্ভাবনের পথ দেখাবে। আন্তর্জাতিক এ বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ বিশ্বজুড়ে গত কয়েক দশকে হওয়া আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনগুলোকে এক জায়গায় দেখার সুযোগ করে দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি কিছুটা অস্থির হওয়া সত্ত্বেও আপনারা যারা এই পেপার এক্সপোতে অংশগ্রহণ করেছেন, আমি আপনাদের সাহসিকতা ও প্রতিভাকে সাধুবাদ জানাই। এ ধরনের বাণিজ্য মেলা নতুন গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে, প্রতিযোগীদের সম্পর্কে জানতে এবং সাম্প্রতিক সুযোগগুলো যাচাই করতে সাহায্য করবে।’

মোস্তফা কামাল মহিউদ্দীন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের কাগজশিল্প বেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে এটি কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হলেও, বাংলাদেশে এখন প্রায় ১০০টি পেপার মিল উৎপাদনে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত কাগজপণ্য বিশ্বের ৪০টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, এই শিল্প ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাসোসিয়েশনের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের সিনিয়র ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই প্রদর্শনীতে নামকরা উৎপাদনকারী; যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও কাঁচামাল এবং প্রযুক্তি সরবরাহকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য একত্রিত হয়েছেন। বাংলাদেশ একটি ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশ এবং এর কাগজশিল্পও ক্রমান্বয়ে বড় হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কাগজ খাতে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, আমরা এখন বিদেশে কাগজ রপ্তানিও করছি। তাই এ ধরনের এক্সপো ক্রেতা, বিক্রেতা এবং প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের একত্রিত করার একটি মিলনমেলা হিসেবে কাজ করছে। আমি আশা করি, এখানে উপস্থিত সব অংশগ্রহণকারী, স্টলমালিক এবং দর্শনার্থীরা এর মাধ্যমে অনেক উপকৃত হবেন। এর ফলে কেবল ব্যক্তিগত প্রবৃদ্ধিই ঘটবে না, বরং দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হবে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ভারতের কৃষ্ণা টিস্যু প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জ্যোতি কুমার বাজাজ, পেপারটেক এক্সপোর আয়োজক ও বাংলাদেশ এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শাখাওয়াত হোসেন, প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা মাশরুফা হোসেন প্রমুখ।

