ভারতের তামিলনাড়ুতে একটি বেসরকারি সি-ফুড রফতানি কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজের কারণে সাতজন শ্রমিক মারা গেছেন। এ ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নয়জনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
রবিবার তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়ারপালায়ামের কাছে কান্নিগাইপেয়ার এলাকায় অবস্থিত ‘সেন্ট পিটার্স পল সি-ফুডস এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ কারখানায় এই গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কারখানার ভেতরেই শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে আসাম, ওডিশা ও ঝাড়খণ্ডের নারী শ্রমিকসহ প্রায় ১২০ জন শ্রমিক বসবাস করতেন। রবিবার কারখানার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গ্যাস পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। তখন অনেক শ্রমিক তাদের থাকার ঘরের ভেতরেই ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে তা দ্রুত ভেতরে থাকা শ্রমিকদের থাকার রুমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেক শ্রমিক শ্বাসকষ্টের কথা জানান। কারো কারো মুখ ও নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে দেখা যায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্যাস লিকেজের কারণে মোট সাতজন শ্রমিক মারা গেছেন। এছাড়া, নয়জনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
ঘটনার খবর পেয়ে পেরিয়ারপালায়াম থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রাজস্ব বিভাগ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। জেলা প্রশাসনের অনুরোধে আরাকোনামে অবস্থিত ৪র্থ ব্যাটালিয়ন থেকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একটি বিশেষ রাসায়নিক, জৈবিক ও পারমাণবিক উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়।
তিরুভাল্লুর জেলা প্রশাসক এস. কবিতা জানান, ঘটনার পরপরই আক্রান্ত ৬৭ জন শ্রমিককে দ্রুত স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৪৬ জনকে ভেলস হাসপাতালে এবং ২১ জনকে ভেঙ্কটেশ্বরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা ৯ জন রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে চেন্নাইয়ের সরকারি স্ট্যানলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানকার পুলিশ জানায়, কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৪৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৪৩ জন তরুণী এবং ১ জন পুরুষ।
সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ১৫ থেকে ১৬ জন রোগীকে ইনটুবেট (শ্বাসনালীতে নল দেওয়া) করা হয়েছে এবং ১১ জন ভেন্টিলেটর সাপোর্টে আছেন।
এদিকে, কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজের এই ঘটনা তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। শিল্প নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক, দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য-সচিব এবং জনস্বাস্থ্য দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালকের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন এবং তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আর. কুমার (যিনি তিরুভাল্লুর জেলার তদারকি মন্ত্রী) এবং তদারকি কর্মকর্তা কে. পি. কার্তিকায়নকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আক্রান্ত শ্রমিকদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের। পেরিয়ারপালায়াম পুলিশ এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে এবং পরবর্তী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

