তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রিতে ট্রাম্পের অনীহা, বেইজিংয়ের বড় কূটনৈতিক জয়

0
তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রিতে ট্রাম্পের অনীহা, বেইজিংয়ের বড় কূটনৈতিক জয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার দুই দিনব্যাপী আলোচনা শেষে তাইওয়ান ইস্যুতে নতুন এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি না আসা বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তাইওয়ান পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে চীন যদি তাইওয়ান আক্রমণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ করবে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি। অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গে ট্রাম্প কেবল এটুকুই বলেন যে, আগামী স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ট্রাম্পের এই দোটানা বা সময়ক্ষেপণ চীনের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। যদিও ট্রাম্প পরবর্তী সময়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে অস্ত্র বিক্রিতে রাজি হতে পারেন, তবে বর্তমানে তার এই ‘ভেবে দেখার’ অবকাশ চীনা নেতৃত্বকে নতুন করে সুযোগ করে দিচ্ছে।

আলোচনা চলাকালীন ট্রাম্প অনেকটা শি জিনপিংয়ের সুরেই কথা বলেছেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, শি তাকে বুঝিয়েছেন যে হাজার বছর ধরে তাইওয়ান চীনের অংশ ছিল এবং বেইজিং কোনোভাবেই তাইওয়ানের স্বাধীনতা আন্দোলন মেনে নেবে না।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘ওয়ান চায়না’ বা ‘এক চীন’ নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে যে তাইওয়ান চীনের অংশ, তবে স্বশাসিত এই দ্বীপটির ওপর কমিউনিস্ট পার্টির সার্বভৌমত্বের দাবিকে ওয়াশিংটন কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করতে আইনত বাধ্য। তা সত্ত্বেও মার্কিন ও তাইওয়ানিজ কর্মকর্তাদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা করছেন যে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ট্রাম্প তাইওয়ানকে ব্যবহার করতে পারেন। 

বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত তাইওয়ানের কাছে বিলিয়ন ডলারের আধুনিক অস্ত্র বিক্রি করলেও, যুদ্ধের সময় সরাসরি সহায়তার বিষয়ে ওয়াশিংটন সব সময়ই একটি কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রেখে এসেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই অস্পষ্টতাকে আরও ঘনীভূত করল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here