দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে অস্থির সময় পার করছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ এখন সরাসরি যুদ্ধের রূপ নিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছেন, দুই দেশ এখন কার্যত সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। এর আগে ইসলামাবাদ আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায়, যার বিপরীতে তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণের ঘোষণা দিয়েছেন।
মূলত ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ কর্মকর্তা মর্টিমার ডুরান্ড এবং তৎকালীন আফগান আমির আব্দুর রহমান খানের মধ্যে সম্পাদিত এক চুক্তির মাধ্যমে এই ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রেখাটি টানা হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই আফগানিস্তান এই সীমানাকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে আসছে।
আফগানদের দাবি, ব্রিটিশ শাসনামলে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া এই সীমানা পশতুন জাতির নৃ-গোষ্ঠীকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর তারা এই লাইনকে আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে উত্তরাধিকার সূত্রে পেলেও কাবুল একে কখনোই বৈধতা দেয়নি।
২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। গত বছরের অক্টোবর মাসে দুই দেশের সীমান্তে বড় ধরনের সংঘর্ষে বহু সেনা ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। পাকিস্তান বর্তমানে সীমানা সুরক্ষায় বেড়া দেওয়ার কাজ চালিয়ে গেলেও তালিবান প্রশাসন মনে করে, এই সীমানা পশতুন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও জাতিগত ঐক্যের পথে বড় বাধা। বর্তমানে সীমান্তে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান বিমান হামলার ফলে ওই অঞ্চলে এক ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

