মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি তেল সরবরাহে চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারত সফর করেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য- ভারতের কাছে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া এবং দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করেছে। এর ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে সক্রিয় হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। সফরে রুবিও ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ও অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত যেন ইরান ও রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মার্কিন জ্বালানির দিকে ঝুঁকে পড়ে। এতে উভয় দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু জ্বালানি বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন নিজেদের জ্বালানি রপ্তানি বাড়াতে চায়, অন্যদিকে এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
ভারত বরাবরই বহুমুখী জ্বালানি উৎস বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে। দেশটি একাধিক উৎস থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করে, যাতে কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরতা বেশি না হয়।
ইরানি তেল সরবরাহে অস্থিরতার সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। রুবিওর এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্য সূত্র- বিবিসি।

