জুরাইন কবরস্থানে বদরুদ্দীন উমরের দাফন সোমবার

0
জুরাইন কবরস্থানে বদরুদ্দীন উমরের দাফন সোমবার

প্রবীণ বামপন্থী রাজনীতিক, লেখক, গবেষক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরকে আগামীকাল সোমবার রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হবে।

দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম। তিনি জানান, বদরুদ্দীন উমরের বড় মেয়ে বিদেশে রয়েছেন। তার ফেরার পরই জুরাইন কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।

দাফনের আগে সোমবার বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সোমবার সকাল ১০টার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরাদেহ নেওয়া হবে। সেখানে সবার শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ রাখা হবে।

বদরুদ্দীন উমর আজ রবিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

১৯৩১ সালে ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন বদরুদ্দীন উমর। তার বাবা আবুল হাশিম ভারতীয় উপমহাদেশের একজন মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ ছিলেন।

বদরুদ্দীন উমর ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতক সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৫৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পিপিই ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

গভর্নর মোনায়েম খানের স্বৈরতান্ত্রিক নীতি ও আচরণের প্রতিবাদে ১৯৬৮ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতি, গবেষণা ও লেখালেখিতে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করেন। পরে ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল গড়ে তোলেন এবং সভাপতির দায়িত্ব নেন।

ষাটের দশকে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আর ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে বদরুদ্দীন উমরের লেখা বইগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

তার চিন্তা বুঝতে সহায়ক বিশেষ করে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৬), ‘সংস্কৃতির সংকট’ (১৯৬৭), ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৯)—তিনটি বই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here