জীবন দিয়ে সন্তানের লোভের মূল্য চুকালেন বৃদ্ধ পিতা

0
জীবন দিয়ে সন্তানের লোভের মূল্য চুকালেন বৃদ্ধ পিতা

সব পিতাই তার সন্তানকে সফল দেখতে চান, সন্তানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেন। কিন্তু সম্পদের লোভ অনেক সময় মানুষকে পশুতে বদলে দেয়। এমনই এক সন্তানের লোভের বলি হয়েছেন ৮২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। ঘটনাটি ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের।

৮২ বছর বয়সী জাফর কমরুদ্দিন সৈয়দ প্যাটেল কাজ করতেন পানিসম্পদ বিভাগে। ভেবেছিলেন অবসর জীবনটা সন্তানের সাথে আয়েশেই কাটাবেন। কিন্তু তার ছেলেই তার অবসর জীবনকে নরক বানিয়ে তোলে। লোভী এবং উগ্র মেজাজের আব্দুল রেহমান আব্দুল জাফর পরিবারের সদস্যদের সাথে দুর্ব্যবহার করতেন, এমনকি গায়েও হাত তুলতেন। অতিষ্ঠ হয়ে সৈয়দ প্যাটেল পুনেতে তার মেয়ের বাসায় চলে যান। তবে সেখানে গিয়ে তিনি চুপচাপ বসে থাকেননি। নিজের পরিশ্রমে গড়া বাড়ি থেকে ছেলেকে উচ্ছেদ করতে মামলা ঠুকে দেন আদালতে। 

দুইবছরের আইনী লড়াই শেষে ছেলের বিরুদ্ধে জয় পান বাবা। উচ্ছেদের রায় নিয়ে ফিরছিলেন বাড়ি। হয়তো ভেবেছিলেন বাকি জীবনটা নিজের হাতে গড়া বাড়িতেই কাটাবেন। মেয়েকে নিয়ে অটেরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন সৈয়দ প্যাটেল। কিন্তু তার ছেলের মনে ছিল অন্য ভাবনা। আদালতের পরাজয়টা মেনে নিতে পারেননি মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করা আব্দুল জাফর। রাস্তার মাঝখানে অটেরিকশা থামিয়ে বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তিনি। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ভাইয়ের আঘাতে আহত হন বোনও। বেচারা সৈয়দ প্যাটেলের আর বাড়ি ফেরা হলো না। পুলিশ আব্দুল জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে।

সৈয়দ প্যাটেল হয়তো সন্তানের কথা ভেবেই সম্পদ গড়েছিলেন। সম্পদ গড়তে গিয়ে সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দেয়া, মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলার সময় হয়তো পাননি। সৈয়দ প্যাটেল সম্পদে বিনিয়োগ না করে যদি সন্তানের পেছনে বিনিয়োগ করতেন তাহলে হয়তো নিজেকে এভাবে বেঘোরে প্রাণ দিতে হতো না, ছেলেকে জেলে যেতে হতো না, মেয়েকে আহত হতে হতো না; পুরো পরিবারটি এভাবে ধ্বংস হতো না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here