প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসীয় তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনী ব্যক্তিত্ব মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিল গেটস।
স্থানীয় সময় বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির (হাউস ওভারসাইট কমিটি) সদস্যদের সঙ্গে তিনি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেবেন।
মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) চলতি বছর এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করার পর বিল গেটসের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। প্রকাশিত নথিতে কিছু অযাচাইকৃত ও অসত্যপ্রমাণিত অভিযোগের পাশাপাশি বিল গেটস ও এপস্টেইনের মধ্যে দাতব্য কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত সমন্বয়ের বিষয়ও উঠে এসেছে, যা আগে যতটা জানা ছিল তার চেয়ে বেশি বিস্তারিত।
কংগ্রেসের তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, তারা স্বেচ্ছাসহযোগিতার ভিত্তিতে বিল গেটসের সাক্ষ্যগ্রহণ করতে চায়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট- উভয় দলের সদস্যরাই তার কাছে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রকৃতি ও পরিধি সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন বলে জানা গেছে।
প্রকাশিত নথির সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালের দুটি খসড়া ই-মেইল, যা এপস্টেইন নিজের জন্য লিখেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এসব ই-মেইলে বিল গেটসকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও যৌন সম্পর্কিত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই হয়নি এবং স্বাধীনভাবে প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
নথিগুলোতে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, এপস্টেইন নাকি বিল গেটসের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয়ে সহায়তা করেছিলেন। তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসব খসড়া বার্তা আদৌ কাউকে পাঠানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও কোনও প্রমাণ নেই। বার্তাগুলো এপস্টেইনের নিজের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত ছিল এবং সেগুলো তার নিজের কাছেই সম্বোধন করা হয়েছিল।
এদিকে বিল গেটস বরাবরই এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। তার এক মুখপাত্র এর আগে বলেছেন, “এসব দাবি সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং মিথ্যা। নথিগুলো কেবল এটুকুই দেখায় যে, এপস্টেইন গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে না পেরে হতাশ ছিলেন এবং তাকে ফাঁসানো ও মানহানির চেষ্টা করেছিলেন।”
বিল গেটসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ছিল তার জীবনের একটি বড় ভুল সিদ্ধান্ত। তবে তিনি কোনও বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং এপস্টেইনের অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গেও তার কোনও সম্পৃক্ততা ছিল না।
একাধিক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেছেন, তিনি কখনও এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি, তার আয়োজিত কোনও পার্টিতে অংশ নেননি এবং কোনও অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
অস্ট্রেলিয়ার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, “এপস্টেইন নিজেই নিজের কাছে একটি ই-মেইল লিখেছিলেন। সেটি কখনও পাঠানো হয়নি এবং সেখানে যা বলা হয়েছে তা মিথ্যা। তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি অনুতপ্ত।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কেবল কিছু নৈশভোজ ও বৈঠকে অংশ নিয়েছিলাম। আমি কখনও তার দ্বীপে যাইনি, কোনও নারীর সঙ্গে সেখানে সাক্ষাৎ করিনি। যত বেশি তথ্য প্রকাশ পাবে, ততই পরিষ্কার হবে যে, এটি ছিল একটি ভুল সম্পর্ক, কিন্তু অপরাধমূলক কোনও আচরণের সঙ্গে এর সম্পর্ক ছিল না।”
এর আগে ২০২১ সালে এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস স্বীকার করেছিলেন যে, এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানো ছিল ‘বিরাট ভুল’ এবং এর মাধ্যমে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে এপস্টেইনকে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেতে সহায়তা করেছিলেন।
প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেছেন, বুধবারের সাক্ষাৎকারে প্রশ্নের পরিধির ওপর কোনও সীমাবদ্ধতা থাকবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি বিল গেটসের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের অভিযোগ করছি না। আমরা শুধু জানতে চাই, তিনি কী জানতেন এবং তিনি কোনও উদ্বেগজনক বিষয় প্রত্যক্ষ করেছিলেন কি না।”
অন্যদিকে কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেছেন, এপস্টেইনের দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তার সঙ্গে বিল গেটসের যোগাযোগ বজায় রাখা ‘উদ্বেগজনক’। তার ভাষায়, “আমরা জানতে চাই বিল গেটস কী জানতেন, তার আশপাশে আর কারা ছিলেন এবং কেন তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।”
বিশ্লেষকদের মতে, বিল গেটসের এই সাক্ষ্যগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে যাচ্ছে। যদিও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিল গেটসের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি, তবুও এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক ও জনমহলের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। সূত্র: সিএনএন

