জনপ্রিয় হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ

0
জনপ্রিয় হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক কৃষি প্রযুক্তি মালচিং পদ্ধতি। এতে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। সদর উপজেলার অনেক চাষি দ্বিগুণ ফলন ও ভালো দামে সবজি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

জানা গেছে, মালচিং পদ্ধতিতে প্রথমে জমিতে পরিমিত রাসায়নিক ও জৈব সার দিয়ে সারিবদ্ধ বেড তৈরি করা হয়। পরে বেডগুলো পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট দূরত্বে ফুটো করে বীজ বা চারা রোপণ করা হয়। এতে আগাছা কম হয়, রোগবালাইয়ের আক্রমণও অনেকাংশে হ্রাস পায় এবং সেচ ও শ্রম কম লাগে, ফলে উৎপাদন খরচ কমে আসে।

এছাড়া মালচিং ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহ দিতে বাংলাদেশ টেকসই পুনরুদ্ধার জরুরি প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া প্রকল্প (বি-স্ট্রং) এর আওতায় সদর উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের বিনামূল্যে মালচিং পেপার সরবরাহ করছে।

সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের মীরহাটি গ্রামের কৃষক মো. রায়হান বলেন, ‘মালচিং পদ্ধতিতে গত ৬-৭ বছর ধরে ফসল আবাদ করছি। মালচিং পদ্ধতি চাষাবাদের ফলে সবজি মাটি থেকে সঠিকভাবে খাদ্য গ্রহণ করতে পারে। অতি বৃষ্টিতে সহনশীলতায় রাখা যায়। মালচিং পদ্ধতির ফলে রোগবালাইও কম হয়। এ বছর প্রায় ছয় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে এ বছর খরচ বাদে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ব্যবসা করা যাবে। কৃষি অফিস থেকে আমাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে।’

একই এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত ৫ বছর ধরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছি। মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে আমাদের খরচ অনেক অংশে কমে আসছে। মালচিং পদ্ধতি চাষাবাদে মাটির আর্দ্রতা ঠিক থাকে এবং পোকা মাকড় জমি নষ্ট করতে পারে না। মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে মাটিতে আগাছাও হয় না।’ তিনি জানান, এ বছর ২ কানি জমিতে সূর্যডিম জাতের তরমুজ আবাদ করেছেন।

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার শাহানা বেগম জানান, সদর উপজেলায় এই প্রথম বাংলাদেশ টেকসই পুনরুদ্ধার জরুরি প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া প্রকল্প (বি-স্ট্রং) আওতায় ৬০ জন উদ্যোক্তা কৃষকের মধ্যে উচ্চমূল্যের ফসল চাষের জন্য মালচিং পেপার সরবরাহ করা হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে ৩৩ শতক জমির জন্য মালচিং পেপার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জন কৃষক গ্রীষ্মকালীন শসা, ৮ জন অফসিজন তরমুজ এবং বাকিরা টমেটো চাষ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মালচিং ব্যবহারের কারণে আগাছা, সার ও সেচের ব্যবহার কমে যায়। বি-স্ট্রং প্রকল্প থেকে সরবরাহকৃত মালচিং পেপার বায়োডিগ্রেডেবল, যা কয়েক সিজন ব্যবহারের পর মাটির সাথে মিশে যাবে। এটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here