মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকরা পরিদর্শনে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন জাতিসংঘের এই পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি।
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া এই চুক্তির অধীনে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করা হবে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের পর তিনি এই মন্তব্য করলেন।
জাপানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে গ্রসি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে পারমাণবিক উপাদান ও স্থাপনা-সংশ্লিষ্ট সমস্ত কার্যক্রম আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। আর এই দায়িত্ব পালনের জন্য পরিদর্শকদের অবশ্যই সেখানে সশরীরে পরিদর্শন করতে হবে। এই পরিদর্শনের সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও এটি খুব শিগগিরই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, ইরান আরও বেশি পরমাণু পরিদর্শনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছিল যে আইএইএ পরিদর্শকদের জন্য এমন কোনো সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি। ট্রাম্পের বক্তব্য ইরানের এই দাবিকে সরাসরি খণ্ডন করল।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুনের শুরুতে আইএইএ ইরানের একটি সক্রিয় পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করলেও, ২০২৫ সালে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে গত প্রায় এক বছর ধরে সংস্থাটির কোনো প্রবেশাধিকার ছিল না। ফলে চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দুই দেশের মধ্যকার শান্তিচুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই আসন্ন পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সিএনএন

