রেগুলেটরি অথরিটির কাছ থেকে ব্রোকার ও প্রোডাক্ট অনুমোদন পাওয়া গেলে চলতি বছরই চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। রবিবার (১৪ জুন) বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সিএসইয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিএসইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমরা প্রস্তুত। রেগুলেটরি প্রস্তুতি নিয়ে যে ঘাটতিটা ছিল সেটা ফিলাপ হয়েছে। এবার ব্রোকার এবং প্রোডাক্ট এপ্রুভাল রেগুলেটরি অথরিটির থেকে পেলে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আমরা কমোডিটি এক্সচেঞ্জ লাইভ করতে পারব।’
সংবাদ সম্মেলনে সিএসইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে পণ্যের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো সংগঠিত কমোডিটি মার্কেট নেই। সরকার এবারের বাজেটে বিদ্যমান লাইসেন্স সক্রিয়করণ ও বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কার্যকর করার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
কমোডিটি এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টস, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডস, ইনডেক্স হেজিং ও কারেন্সি হেজিং ইন্সট্রুমেন্ট চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার কথা বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার পুঁজিবাজারকে শুধু শেয়ার লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বাজার ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে।
সিএসইয়ের চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান বাজেটে করদাতাদের ৫ শতাংশ প্রণোদনা ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ বলেন, বাজেটে পুজিবাজারকে দীর্ঘ মেয়াদি ইনভেস্টের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা যদি করা হয়, তাহলে ক্যাপিটাল মার্কেটের গভীরতা বাড়বে। ভালো ভালো কোম্পানি এ মার্কেটে আসবে।
শেয়ার হোল্ডার ডিরেক্টর মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক যে কালচারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি সেটাকে কোনো না কোনো পর্যায়ে গিয়ে আমাদের সংশোধন করতে হবে। রাজনীতি যার যার, অর্থনীতি কিন্তু সবার। অর্থনীতিতে গ্রোথটা ভালো হলে আমরা সবাই উপকৃত হব। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সর্বোত্তম বাজেট।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিতি ছিলেন শেয়ার হোল্ডার ডিরেক্টর শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরী ও কোম্পানি সেক্রেটারি রাজীব সাহা।

