গ্রিসের করিদালোজ কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন কামরান দেলোয়ার হোসেন খান নামের এক বাংলাদেশি। দেশে পরিবারের সন্ধান না পাওয়ায় ও পরে এক স্বজনের অনুরোধে মরদেহ স্থানীয়ভাবে দাফনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস, এথেন্স।
দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৪ মার্চ কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন কামরান দেলোয়ার হোসেন খান। তবে তার কাছে কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন বা অন্য কোনো সরকারি নথি না থাকায় তাকে বাংলাদেশি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি একজন আনডকুমেন্টেড কর্মী ছিলেন। তবু গ্রিক নথিতে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ থাকায় মানবিক বিবেচনায় দূতাবাস মরদেহটি গ্রহণ করে।
পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পূর্বপুরুষদের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায় হলেও সেখানে বর্তমান পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে অন্য একটি দেশে অবস্থানরত তার ভাই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, বাংলাদেশে তাদের আর কোনো স্বজন নেই। তিনি মরদেহ দেশে না পাঠিয়ে গ্রিসেই দাফনের জন্য অনুরোধ জানান এবং এ বিষয়ে অনাপত্তিপত্র প্রদান করেন।
দূতাবাস জানায়, পরিচয় নিশ্চিত না হলে এবং বাংলাদেশি হিসেবে সুস্পষ্ট তথ্য না থাকলে এ ধরনের ক্ষেত্রে কার্যক্রম গ্রহণে সরকারের বাধ্যবাধকতা থাকে না। তবু মানবিক দিক বিবেচনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মরদেহ মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, এথেন্স থেকে দূরবর্তী থেসালোনিকি অঞ্চলের কুমুটিনী এলাকায় মুসলিম কবরস্থানে দাফনের সুযোগ রয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল এবং স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটির অনুমোদনসাপেক্ষে সম্পন্ন করতে হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকারের বরাদ্দকৃত বাজেটে শুধু বৈধ কাগজপত্রধারী কর্মীদের মরদেহ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়তা প্রদান করা হয়। বিদেশে দাফনের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে পরিচয় নিশ্চিত হলে আনডকুমেন্টেড কর্মীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় দেখা হয়। এক্ষেত্রে মৃতের পরিবারের অনুরোধে গ্রিসেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দূতাবাস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং আগামী ৭ মে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে।
দূতাবাস জানায়, সার্বিক বিষয়টি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করছে।

