গমের ৫টি নতুন জাত: ফলন হয়েছে দ্বিগুণ, রোগপ্রতিরোধী

0
গমের ৫টি নতুন জাত: ফলন হয়েছে দ্বিগুণ, রোগপ্রতিরোধী

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত জিংক সমৃদ্ধ ও উচ্চফলনশীল পাঁচটি নতুন জাতের গমের আবাদ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। এগুলো উৎপাদন দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি, তাপ-লবণাক্ততা ও খরাসহিষ্ণু। একই সঙ্গে ব্লাস্টসহ বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতগুলো সম্প্রসারিত হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে, আর ২০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন বাড়বে। জাতগুলো চর, পাহাড় ও বরেন্দ্র অঞ্চলেও খুব সহজে চাষাবাদ করা যাবে।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এর তথ্যমতে, গমের চলতি মৌসুমের শুরুতে সারা দেশের ৫ হাজার ৩০০ জন কৃষকের মাঝে বীজ প্রদর্শনী ওই প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এগুলোর হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ৫ টন থেকে ৬ টন, যা অন্য জাতগুলোর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। সবগুলোই স্বল্পমেয়াদি। ফলে একই জমিতে ৩ থেকে ৪টি ফসল উৎপাদন করা যায়। পাশাপাশি এসব জাত স্বল্পমেয়াদি, তাপ-লবণাক্ততা ও খরা সহিষ্ণু, ব্লাস্টসহ বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধী এবং জিংক সমৃদ্ধ।

জাতগুলোর নামকরণ করা হয়েছে, বিডাব্লিউএমআরআই-১, বিডাব্লিউএমআরআই-২, বিডাব্লিউএমআরআই-৩, বিডাব্লিউএমআরআই-৪ এবং বিডাব্লিউএমআরআই-৫। এ 

সদর উপজেলার রামডুবি এলাকার কৃষক দবিরুল ইসলাম বলেন, আগে গমের উৎপাদন অনেক কম ছিল। তখন ৫ বিঘা জমিতে গমের আবাদ করতাম, পরে করছি ১০ শতাংশ জমিতে। তবে এখানকার উদ্ভাবিত গমের নতুন নতুন জাতগুলোর বীজ চাষাবাদ করেছি, এগুলোর ফলন অনেক বেশি। স্বল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে গম আবাদ করে লাভবান হচ্ছি।

সদরপুর এলাকার মাইন উদ্দিন বলেন, এখন অনেক উন্নত জাত বের হয়েছে। আগে প্রতিবিঘায় (৪৮ শতাংশ) ৫ থেকে ৮ মণ হতো। এখন প্রতিবিঘায় ২৫ থেকে ২৮ মণ গম উৎপাদন হচ্ছে। নতুন নতুন জাতগুলো আবাদ করতে কৃষকরা আগ্রহী, এসব বীজ পেলে ধারাবাহিকভাবে গমের আবাদ বাড়বে। 

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মাহফুজ বাজ্জাজ বলেন, গতবছর দেশে গমের গড় ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি ৩.৮৬ মেট্রিক টন। আর নতুন জাতগুলোতে ৫ থেকে ৬ মেট্রিক টন পর্যন্ত উৎপাদন হচ্ছে। এতে করে ২০ শতাংশ গমের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। 

তিনি বলেন, নতুন জাতের গমগুলো চর অঞ্চল, পাহাড়ি অঞ্চল ও বরেন্দ্র অঞ্চলে খুব সহজেই গম চাষাবাদ করা যাবে। গমে সার কম লাগে, কীটনাশক কম প্রয়োজন হয় এবং পরিবেশবান্ধব। এসব জাত কৃষকের জমিতে চাষের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতগুলোর বীজ উৎপাদন করা এবং সম্প্রসারণ করা দরকার। এতে দেশে গমের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে ও আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। দেশে প্রতিবছর গমের চাহিদা বাড়ছে, সেজন্য গমের উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও গুরুত্বারোপ করা উচিত।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here