কেন শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?

0
কেন শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে আরও ভালো চুক্তির জন্য অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক টরবর্ন সল্টভেড। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে একটি ‘ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকলেও নিম্নমাত্রার সংঘাত পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরি করছে।

সল্টভেড বলেন, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং দুই পক্ষের সংঘাত আগের তুলনায় ‘আরও গুরুতর পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। তবে একই সময়ে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “আলোচনা অবশ্যই চলছে, কিন্তু বর্তমান সমস্যা হলো- দুই পক্ষই শক্তিশালী অবস্থান থেকে আলোচনা করার চেষ্টা করছে।”

ঝুঁকি বিশ্লেষকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে ইরানের ওপর আরও চাপ বাড়ালে ভবিষ্যৎ আলোচনায় তারা তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে পারবে। তাই ওয়াশিংটন অপেক্ষা করে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার কৌশল অনুসরণ করছে।

অন্যদিকে ইরানও মনে করছে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারছে। এর মাধ্যমে তারা আরও সুবিধাজনক চুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে পারবে বলে তেহরান মনে করছে।

সল্টভেড বলেন, ইরানের এই কৌশল কিছুটা কার্যকর হচ্ছে, কারণ সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুভূত হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, “যুক্তরাষ্ট্রেও এখন মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।”

বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত ও অস্থিতিশীল। কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই টানাপোড়েন শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হওয়ায় সেখানে যেকোনও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here