কুমিল্লায় রেস্টুরেন্টে ভুলে রেখে যাওয়া পাকিস্তানি শিশুকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

0
কুমিল্লায় রেস্টুরেন্টে ভুলে রেখে যাওয়া পাকিস্তানি শিশুকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে নাস্তা শেষে ভুলবশত ফেলে যাওয়া দেড় থেকে দুই বছর বয়সী পাকিস্তানি শিশু নাফিসাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। পরে শিশুটিকে নিয়ে পরিবারটি পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৩টার দিকে মোস্তাফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্টুরেন্টে সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় শিশুটিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও সুজন চন্দ্র রায় জানান, প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল শিশুটির পরিবার ভারতের কাশ্মির থেকে এসেছে। তবে শিশুটিকে নিতে আসা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা পাকিস্তানের নাগরিক। পরিবারটি পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছে। শনিবার সকালে দুটি গাড়িতে করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।

তিনি জানান, সকালে জাইতুন রেস্টুরেন্টে নাস্তা শেষে দুটি গাড়িতে যাত্রা শুরু করে পরিবারটি। এক গাড়িতে ছিলেন শিশুটির বাবা-মা, অন্য গাড়িতে ছিলেন দাদা-দাদুসহ অন্যান্য স্বজন। বাবা-মায়ের ধারণা ছিল নাফিসা দাদা-দাদুর গাড়িতে উঠেছে, আর দাদা-দাদুর ধারণা ছিল সে বাবা-মায়ের গাড়িতে রয়েছে। এ ভুল বোঝাবুঝির কারণে শিশুটি রেস্টুরেন্টেই থেকে যায়।

পরবর্তীতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় পৌঁছে শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারটি বিষয়টি বুঝতে পারে। দ্রুত কুমিল্লার দিকে ফিরে আসে। এদিকে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে দেখতে পেয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়।  উপজেলা সমাজসেবা অফিস পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করে।

জাইতুন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, পরিবারটি চলে যাওয়ার পর তারা শিশুটিকে রেস্টুরেন্টে একা দেখতে পান।  দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে সমাজসেবা অফিসের সহায়তায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিশুকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা। তারা পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here