কুড়িগ্রামে সরকারি সেবার সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে ক্যাম্পেইন

0
কুড়িগ্রামে সরকারি সেবার সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে ক্যাম্পেইন

কুড়িগ্রামে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি সেবার সহজ ও সমতাভিত্তিক প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর যাত্রাপুর এলাকায় ফ্রেন্ডশিপ স্কুল চত্বরে এ অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিবতাহুল রহমান, জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক মুহঃ হুমায়ুন কবির, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জয়ন্তী রানী, জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রব, সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আজগার আলী, যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপ সেক্টরের জেনারেল ম্যানেজার একরামুল হক প্রমুখ। 

স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন ও নাগরিকবান্ধব সেবাপ্রদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ক্যাম্পেইনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, নারী, যুবক, প্রবীণ নাগরিক অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারি সেবার তথ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাবে অনেক নাগরিক কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ নানা জটিলতা ও ভোগান্তির কারণে সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারেন না।

ক্যাম্পেইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি সেবা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে অনলাইন সেবা গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং সরকারি সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে নাগরিকদের অধিকার ও করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে সরকারি সেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা আরও বলেন, সরকার জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরকারি সেবার প্রাপ্যতা আরও সহজ ও কার্যকর করা সম্ভব।”

আয়োজকরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবার সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাদের মতে, জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও সেবামুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here