কীটনাশক ছাড়া নিরাপদ সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক

0
কীটনাশক ছাড়া নিরাপদ সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক

কীটনাশক ও বিষাক্ত সারের ব্যবহার ছাড়াই বিশেষ পদ্ধতিতে জৈব সারের ব্যবহার করে নিরাপদ উচ্চমূল্যের সবজি চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন দিনাজপুরের কৃষক। নিরাপদ উচ্চমূল্যের সবজি চাষ করতে পোকামাকড় দমনে হলুদ আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করা হয়। বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও ফলন ভালো হওয়ায় অনেক কৃষকই এই পদ্ধতিতে চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। 

স্বল্প শ্রম, কম খরচ করেও দ্বিগুণ উৎপাদন পেয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষক তেমনি বিষমুক্ত সবজি পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন ক্রেতারাও। এমনটাই সাফল্য পেয়েছেন দিনাজপুর সদর উপজেলার আস্করপুর ইউনিয়নের কৃষকরা। 

সরেজমিনে সদর উপজেলার আস্করপুর ইউনিয়নে দেখা যায়, ইউনিয়নের কৃষকরা নিরাপদ উন্নতমানের সবজি আবাদে ব্যবহার করেছেন নতুন এই পদ্ধতি। করলা, পটল, চিচিঙ্গা, কায়তা, মরিচ, বেগুন, কুমড়াসহ বিভিন্ন আবাদের মাঠজুড়ে অত্যন্ত পরিপাটি সবজি ক্ষেতগুলোতে বসানো হয়েছে হলুদ আঠালো ফাঁদ। এতে দমন করা হচ্ছে ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকার উপদ্রব। ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব সার ও নিমের রস। এই পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকের খরচ কমেছে এক তৃতীয়াংশ। একজন কৃষক ২৫ শতক জমিতে ২০ হাজার টাকার সবজি আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
কৃষকদের এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে দিনাজপুরের মহিলা বহুমূখী শিক্ষা কেন্দ্র (এমবিএসকে) কৃষি শাখা এবং সহযোগিতা করেছে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
আস্করপুর ইউনিয়নের নাগোরপাড়া এলাকার কৃষক হাফিজুর রহমান, আব্দুস সামাদ, রবিউল ইসলাম, নীরেন, সাথী, লক্ষীরাণী, মৌসুমীসহ অনেকে জানান, এই পদ্ধতিতে করলা, পটল, চিচিঙ্গাসহ নানা সবজি আবাদ করেছেন তারা। হলুদ আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করায় জমির ফসল নিরাপদ থাকছে। পোকার আক্রমণের হাত থেকে রক্ষায় এটি কার্যকর পদ্ধতি। এছাড়াও রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে জৈব সার ও কেঁচো সার। ব্যবহার করা হয়েছে কোন রকম কীটনাশক ছাড়াই নিমের নির্যাস দিয়ে তৈরী রস। এতে উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে গেছে। যা দেখে আশেপাশের কৃষকরাও উদ্ধুদ্ধ হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এমবিএসকে কৃষি কর্মকর্তা হোসেন মো. আবু সুফিয়ান জানান, ক্ষেতে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে জৈব সার ও নিমের রস। ফলে এ জমিতে কম সার প্রয়োগ করতে হয়, সেচের অপচয় হয় না এবং ক্ষতিকর পোকা আক্রমণ করতে পারে না। সবজি ক্ষেতগুলোতে বসানো হয়েছে হলুদ আঠালো ফাঁদ। এতে ছত্রাক কিংবা বিভিন্ন রোগের আক্রমণও কম হয়। ভালো উৎপাদন হয়। তাই কৃষকদের উৎসাহিত করে এই পদ্ধতিতে সবজি আবাদ করানো হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্ষতিকর ঔষধ স্প্রে না করে পরিবেশবান্ধব কীটপতঙ্গ দমন পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের বক্স ব্যবহার করা হয়। যার দুপাশে তিন কোণা ফাঁক থাকে। পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করতে স্ত্রী পোকার শরীর থেকে নিঃসৃত এক রকম রাসায়নিক পদার্থ বা স্ত্রী পোকার গন্ধ ব্যবহার করা হয় ফাঁদে। এর আকর্ষণে পুরুষ পোকা ফাঁদের দিকে ধেয়ে আসে এবং ফাঁদে পড়ে মারা যায়। এতে করে জমির ফসল নিরাপদ থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here