কিচেন পোর্টার থেকে কাউন্সিল স্পিকার, মুশতাক আহমদের অনন্য যাত্রা

0
কিচেন পোর্টার থেকে কাউন্সিল স্পিকার, মুশতাক আহমদের অনন্য যাত্রা

যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নতুন স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বেথনাল গ্রিন ওয়েস্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ব্যারিস্টার মুশতাক আহমদ। একজন কিচেন পোর্টার থেকে শুরু করে ব্যারিস্টার, কাউন্সিল কেবিনেট সদস্য এবং এখন কাউন্সিলের ‘ফার্স্ট সিটিজেন’- তার এই যাত্রা পূর্ব লন্ডনের অভিবাসী সমাজে এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় কাউন্সিল চেম্বারে অনুষ্ঠিত নতুন কাউন্সিলের প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভায় তাকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। একই সভায় ল্যান্সবারি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। সভায় নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান নবনির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের জন্য আরও উন্নত একটি বরো গড়ে তুলতে সবাই মিলে কাজ করা হবে।

মুশতাক আহমদের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জালালপুরের খতিরা গ্রামে জন্ম নেওয়া তিনি ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। জীবিকার তাগিদে শুরুতে রেস্টুরেন্টে কিচেন পোর্টার হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে নিজেই রেস্টুরেন্ট ব্যবসা গড়ে তুলে প্রায় ১২ বছর ক্যাটারিং খাতে যুক্ত ছিলেন।

৩২ বছর বয়সে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত নেন- পুনরায় পড়াশোনায় ফেরার। টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজে ভর্তি হয়ে “স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার” নির্বাচিত হন। এরপর আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ধাপে ধাপে ব্যারিস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন, দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব ল’ থেকে পড়াশোনা শেষে ২০১৭ সালে ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টার হিসেবে অভিষিক্ত হন। বর্তমানে তিনি ট্রেইনি সলিসিটর ও লিটিগেশন কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত, যেখানে সিভিল, এমপ্লয়মেন্ট ও ইমিগ্রেশন আইনে কাজ করছেন।

আইন পেশার পাশাপাশি কমিউনিটি সেবাতেও তিনি সক্রিয়। ছাত্রজীবনে রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে হেলথ অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ শুরু করে প্রায় ১৫ বছর রোগী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন। কাউন্সিলে তিনি জবস, স্কিলস অ্যান্ড গ্রোথ বিষয়ক কেবিনেট সদস্য, ওভারভিউ অ্যান্ড স্ক্রুটিনি কমিটির চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দুটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন- যার একটি অসহায় রোগীদের সহায়তায় কাজ করে এবং অন্যটি খেলাধুলা ও প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পরিবারমুখী। স্ত্রীকে নিজের সাফল্যের মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যাদের মধ্যে বড় সন্তানরাও আইন পেশায় যুক্ত।

মুশতাক আহমদের এই সাফল্য কেবল একটি রাজনৈতিক অর্জন নয়; বরং এটি প্রমাণ করে, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো বয়সে নতুন করে শুরু করে সফলতা অর্জন সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here