কান্ট্রি মিউজিকের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ও একইসঙ্গে অত্যন্ত বিতর্কিত শিল্পী ডেভিড অ্যালান কো ৮৬ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ‘রোলিং স্টোন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার প্রবীণ এই শিল্পীর মৃত্যু হয়।
১৯৩৯ সালে ওহিওতে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী সত্তরের দশকে কান্ট্রি সংগীতের প্রচলিত ধারার বাইরে ‘আউটল’ (Outlaw) মুভমেন্টের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। বিশেষ করে তার গাওয়া ‘দ্য রাইড’, ‘ইউ নেভার ইভেন কলড মি বাই মাই নেম’ এবং ‘মোনা লিসা লস্ট হার স্মাইল’-এর মতো গানগুলো তাকে সংগীতের ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছে।
ডেভিড অ্যালান কো-র ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ষাটের দশকে ন্যাশভিলেতে অন্য শিল্পীদের জন্য গান লেখার মধ্য দিয়ে। ১৯৭৩ সালে তানিয়া টকারের কণ্ঠে তার লেখা ‘উড ইউ লে উইথ মি (ইন আ ফিল্ড অব স্টোন)’ গানটি কান্ট্রি চার্টের শীর্ষে উঠে এলে গীতিকার হিসেবে তিনি প্রথম পাদপ্রদীপে আসেন। এর ঠিক পরেই কলাম্বিয়া রেকর্ডসের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৭৪ সালে তার প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘দ্য মিস্টেরিয়াস রাইনস্টোন কাউবয়’ মুক্তি পায়। ১৯৭৫ সালে তার অন্যতম জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘ওয়ান আপন আ রাইম’ বাজারে আসে। এ ছাড়া তার লেখা ‘টেক দিস জব অ্যান্ড শভ ইট’ গানটি জনি পেচেকের কণ্ঠে ১৯৭৭ সালে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
সাফল্যের পাশাপাশি কো-র ক্যারিয়ার ছিল বিবিধ বিতর্কে ঘেরা। সত্তরের দশকের শেষের দিকে এবং আশির দশকের শুরুতে তিনি দুটি ‘এক্স-রেটেড’ অ্যালবাম—‘নাথিং সেক্রেড’ এবং ‘আন্ডারগ্রাউন্ড অ্যালবাম’ প্রকাশ করেন। এই অ্যালবামগুলোতে বর্ণবাদী শব্দ এবং সমকামভীতি ও নারীবিদ্বেষী ভাষার ব্যবহারের কারণে তাকে চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
জীবনের শেষ পর্বেও তিনি আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। ২০১৫ সালে কর ফাঁকির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিন বছরের প্রবেশন এবং আইআরএস-কে প্রায় ১০ লাখ ডলার পরিশোধের দণ্ডও ভোগ করেন তিনি।
গানের অনন্য জাদুকরী প্রতিভা এবং ব্যক্তিজীবনের উগ্র বিতর্ক—উভয় দিক দিয়েই সংগীতের ইতিহাসে এক অমীমাংসিত নাম হয়ে থাকবেন ডেভিড অ্যালান কো।
সূত্র: ভ্যারাইটি

