কালবৈশাখী উপক্ষো করে তিতাস নদীতে স্নানোৎসবে পূণ্যার্থীর ঢল

0
কালবৈশাখী উপক্ষো করে তিতাস নদীতে স্নানোৎসবে পূণ্যার্থীর ঢল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর তিতাস নদীতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাস্নান। প্রতিবছরের ন্যায় বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) এই গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। স্নানকে কেন্দ্র করে নদীর তীরে বসেছে বিশাল লোকজ মেলা, যেখানে ভিড় জমিয়েছেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সী হাজারো মানুষ।

ভোর থেকেই তিতাস নদীর তীরে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। তিথি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে পবিত্র জলে স্নান করেন ভক্তরা। পলি রানী দাস নামে এক পুণ্যার্থী জানান, ‘নিজের অজানা পাপ মোচন ও গঙ্গা মায়ের কাছে দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেছি।’ সুনিল সাহা নামে অন্য এক ভক্ত বলেন, ‘এই বিশ্বাস থেকেই আসা যে, গঙ্গার পবিত্র জলে স্নান করলে রোগ মুক্তি হয় এবং তর্পণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষেরা পরিত্রাণ পান।’

এদিকে, সকাল থেকেই আবহাওয়া ছিল বৈরী। সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ আকাশ অন্ধকার করে শুরু হয় তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি। মুহূর্তেই মেলা প্রাঙ্গণ ও দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়ে যায় এবং অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কয়েক ঘণ্টার জন্য উৎসবের আমেজে ভাটা পড়ে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামলে বিকাল গড়াতেই মেলা প্রাঙ্গণ আবারো মানুষের সমাগম লক্ষ্য করা যায়। নদীর তীর ঘেঁষে বসা এই মেলায় নাগরদোলার পাশাপাশি হরেক রকম মণ্ডা-মিঠাই, তিল্লাই, খই, চিড়া, মুড়ি এবং মাটির তৈরি বাহারী খেলনার পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। মেলায় আসা দেবোত্তম দাস জানান, ঝড় বৃষ্টির বাধা থাকলেও বিকেলের আনন্দ সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিয়েছে।

দিনব্যাপী এই মেলায় ছোট-বড় প্রায় ৩০০টিরও বেশি দোকান বসেছে। খাবারের দোকানদার জাকির হোসেন বলেন, ‘সকালে ঝড়ের কারণে বেচাকেনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বিকেল থেকে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ায় স্বস্তি ফিরেছে।’ মাটির সামগ্রী বিক্রেতা রবীন্দ্র মোহন পাল জানান, প্রতিবছরই তিনি এই মেলার অপেক্ষায় থাকেন।

স্থানীয়দের ধারণা, দুই দিনব্যাপী চলমান এই মেলায় অন্তত ১ কোটি টাকার বেশি বাণিজ্য হবে। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ঐতিহ্যের এই টান ও মানুষের ভিড় প্রমাণ করে তিতাস পাড়ের এই উৎসবের গভীরতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here