কর্মীর পরিবর্তে এআই বসানো নিয়ে যা বললেন এমআইটি বিশেষজ্ঞ

0
কর্মীর পরিবর্তে এআই বসানো নিয়ে যা বললেন এমআইটি বিশেষজ্ঞ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নবীন পর্যায়ের চাকরি প্রতিস্থাপন করলে তা ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি ও নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক শীর্ষ গবেষক।

এমআইটির ইনিশিয়েটিভ অন দ্য ডিজিটাল ইকোনমির সহনেতৃত্বদানকারী গবেষক অ্যান্ড্রু ম্যাকাফি বলেন, নবীন পর্যায়ের চাকরি কমিয়ে দিলে শুধু কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে না, বরং ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মী ও নেতৃত্ব তৈরির স্বাভাবিক ধারাও ব্যাহত হবে। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কাজ না করলে মানুষ শিখবে কীভাবে? বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা আর প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই তো জটিল কাজ শেখা যায়।

ম্যাকাফির মতে, নবীন কর্মীরা সাধারণত অভিজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে রুটিন দায়িত্ব সামলাতে সামলাতেই ধীরে ধীরে জটিল জ্ঞানভিত্তিক কাজ আয়ত্ত করে। কিন্তু খুব দ্রুত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করলে এই ‘শিক্ষানবিশ ধাপ’ ভেঙে পড়বে। ফলে ভবিষ্যতের দক্ষ কর্মী তৈরির পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, জেনজি প্রজন্মের কর্মীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ এবং এআই ব্যবহারে তারা তুলনামূলকভাবে বেশি দক্ষ। এই প্রজন্মকে বাদ দিলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সবচেয়ে উৎসাহী ও সক্ষম এআই ব্যবহারকারীদের হারাচ্ছে।

ম্যাকাফি উল্লেখ করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে অনীহা দেখায়। তাই নবীন কর্মীদের সুযোগ না দিলে ভবিষ্যতে নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

এমন সতর্কতার মধ্যেই প্রযুক্তি খাতের কিছু শীর্ষ নেতা দাবি করছেন, আগামী পাঁচ বছরে নবীন পর্যায়ের বহু অফিসভিত্তিক চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেই বলেছেন, আইন, প্রশাসন ও আর্থিক খাতে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো এআই সহজেই করতে পারবে।

এআইয়ের পথিকৃৎ জিওফ্রি হিন্টনও সতর্ক করে বলেছেন, কোম্পানির লাভ বাড়ালেও প্রযুক্তি কর্মসংস্থানে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে ভারসাম্য না রাখলে এর দীর্ঘমেয়াদি মূল্য দিতে হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here