ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’ কর্মীদের কম্পিউটারে ট্র্যাকিং সফটওয়্যার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে মাউস নড়াচড়া, ক্লিক ও কিবোর্ডের টাইপিং তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
কোম্পানিটি বলছে, মানুষের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাপ্তরিক কাজ করতে পারবে এমন এআই মডেল তৈরি করতে এসব তথ্য ব্যবহার করা হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি এসব তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে প্রশিক্ষিত করতে চায়। মডেল ক্যাপাবিলিটি ইনিশিয়েটিভ বা এমসিআই নামের এই টুলটি কাজসংক্রান্ত অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে চালু থাকবে। সফটওয়্যারটি মাঝে মাঝে কর্মীদের স্ক্রিনের কনটেন্টের স্ন্যাপশটও নেবে।
গতকাল মঙ্গলবার কোম্পানির ‘মেটা সুপার ইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’ টিমের এক এআই গবেষকের পোস্ট করা অভ্যন্তরীণ বিশেষ বার্তা বা মেমো থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমান এআই মডেলগুলোর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা বলছে, এর মূল উদ্দেশ্য, কম্পিউটারে মানুষের কাজ করার ধরন এআইকে শেখানো। বিশেষ করে ড্রপডাউন মেনু নির্বাচন, কিবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার বা সফটওয়্যার নেভিগেশনের মতো কাজগুলো। এ বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমান এআই মডেল পারদর্শী হতে পারেনি।
মেটা তাদের কাজে এআই যুক্ত করতে নানান পদক্ষেপ নিচ্ছে। কোম্পানিটির দাবি, এর ফলে কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়বে। মেমোতে উল্লেখ করা হয়, ‘মেটার কর্মীরা তাদের দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমেই আমাদের মডেল উন্নত করতে সহায়তা করতে পারেন।’
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ জানান, ‘এআই ফর ওয়ার্ক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোম্পানি অভ্যন্তরীণ ডেটা সংগ্রহ বাড়াচ্ছে। এই প্রকল্পের নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘এজেন্ট ট্রান্সফরমেশন এক্সিলারেটর’ বা এটিএ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এমন একটি কর্মপরিবেশ তৈরি করা, যেখানে অধিকাংশ কাজ এআই এজেন্ট সম্পন্ন করবে। মানুষের ভূমিকা থাকবে সেগুলো তত্ত্বাবধান ও মানোন্নয়ন করা।’
মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন নিশ্চিত করেছেন, এমসিআই থেকে পাওয়া তথ্য এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হবে। তার দাবি, সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ডেটা কর্মীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন বা অন্য কোনো প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা হবে না।
স্টোন বলেন, মানুষের দৈনন্দিন কম্পিউটার ব্যবহারের ধরণ, যেমন: মাউস চালানো, ক্লিক করা বা মেনু নেভিগেট করা এসব বাস্তব তথ্য এআই মডেলকে আরও কার্যকরভাবে প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্য করবে।
বর্তমানে আমেরিকার বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মানুষের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এআই টুলগুলো এখন মানুষের সামান্য তত্ত্বাবধানেই অ্যাপ তৈরি বা বিশাল ডেটা সাজানোর মতো জটিল কাজ করতে সক্ষম। সিলিকন ভ্যালির এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব ঐতিহ্যবাহী সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে কর্মীসংখ্যা কমানোর আলোচনাও বাড়াচ্ছে।

