আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গোতে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। দেশটিতে ইতিমধ্যে ইবোলায় আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ১০১ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে।
গত ১৫ মে কঙ্গো সরকার দেশটিতে ইবোলা মহামারীর ঘোষণা দেয়। ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতেই প্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এটি দেশটিতে ১৭তম প্রাদুর্ভাব। এর দুই দিন পর কঙ্গো এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় শনাক্ত হওয়া ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেন বা ধরনটিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে ‘প্যান্ডেমিক’ বা বৈশ্বিক মহামারী স্তরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস সতর্ক করে বলেছেন, মহামারীর উপকেন্দ্র বা এপিসেন্টার ইতুরি প্রদেশে চলমান সহিংসতা এবং সে কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ায় ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গেব্রিয়াসুস লিখেছেন, “প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সেখানে সংঘাতের মধ্যে বসবাস করছে। এখন প্রতি ৪ জনে একজনের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন এবং প্রতি ৫ জনে একজন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত।”
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা (কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং) এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে দ্রুত সংক্রমণ শনাক্তের কাজ ‘মারাত্মকভাবে’ ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং তাদের সহযোগীরা ইতুরির সবচেয়ে অনিরাপদ এবং দুর্গম এলাকাগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে বলেও পোস্টে তিনি জানান।
কেবল ইবোলাই নয়, একাধিক রোগের কারণে ওই এলাকায় সামগ্রিক স্বাস্থ্য সংকট চলছে। এই সংকট মোকাবিলা ও মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য সেখানে ব্যাপকভিত্তিক বা সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, বলেছেন তিনি।
বুন্দিবুগিও হলো ইবোলার একটি বিরল ধরণ, যা ২০০৭ সালে উগান্ডায় প্রথম শনাক্ত হয়েছিল। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মারা যান। এই ভাইরাসটি ফলখেকো বাদুড় বহন করে এবং আক্রান্ত পশুপাখি বা রোগীর শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে এটি মানুষের মধ্যে ছড়ায় বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।
আশঙ্কার বিষয় হলো, ইবোলার এই ধরণটির জন্য এখন পর্যন্ত অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন নেই।
তবে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা কোভিড-১৯ মহামারীর সময় উদ্ভাবিত প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে এর একটি পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারে, যদিও এর কার্যকারিতা কেমন হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
কঙ্গোতে এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি ‘উচ্চ’ থেকে বাড়িয়ে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ স্তরে উন্নীত করলেও আন্তর্জাতিকভাবে এর ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনও বেশ কম বলেই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

