হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের ওপর শুল্ক বা টোল আদায়ে ইরানকে সহযোগিতা করলে ওমানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম সামরিক হুমকির ঠিক একদিন পরেই ওমানকে এই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার নতুন হুমকি দিলেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের শুল্কব্যবস্থা চালুর চেষ্টাকে মার্কিন সরকার মোটেও বরদাশত করবে না।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী তার বিবৃতিতে ওমানকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, ওমানের বিশেষভাবে জানা উচিত যে—এই জলপথে টোল আদায়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুবিধা প্রদানকারী যেকোনো পক্ষকে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। একইসঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় ইরানের সহযোগী বা অংশীদার হওয়া যেকোনো দেশকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্বজুড়ে মুক্ত বাণিজ্য ও নৌ-চলাচলকে ব্যাহত করার জন্য ইরানের এই ধরনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার জন্য তিনি বিশ্বের অন্য সমস্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতিও জোর আহ্বান জানান।
এর আগে, বুধবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে লক্ষ্য করে চরম সামরিক হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, ওমান যদি তেহরানের সঙ্গে যোগসাজশ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওমানকে ‘উড়িয়ে’ দেবে। ট্রাম্পের সেই বিতর্কিত ও আগ্রাসী মন্তব্যের পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের এই নতুন হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের মিত্র ওমানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়িয়ে দিল, যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন

