ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার কাজী শামসুন্নেসা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরুর আগে এনসিপির শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। পরে এনসিপির ওই নেতাকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ ঘটনার সময় ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভাঙ্গার কাজী শামসুন্নেসা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষার্থীদের তোপের মুখে এনসিপি নেতাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও শিক্ষকদের কক্ষে থাকা এনসিপির নেতাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীরা ওই নেতাকে গ্রেফতারের জন্য পরীক্ষা বর্জন করে স্কুল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরীক্ষা শুরু হয়।
এনসিপির ওই নেতার নাম আশরাফ হোসেন (২৮)। তিনি ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক। আশরাফ ভাঙ্গা পৌরসভার নূরপুর মহল্লার বাসিন্দা।
পরীক্ষা কেন্দ্রের একাধিক পরীক্ষার্থী জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে জীববিজ্ঞান বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই এনসিপি নেতা আশরাফ শেখ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তার হবু স্ত্রী ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। সেই সুবাদে প্রত্যেক পরীক্ষার দিন তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার পরীক্ষার কক্ষে গিয়ে সাধারণ ছাত্রদের উপর খবরদারি করেন। সাধারণ ছাত্ররা প্রতিবাদ করে। এক পর্যায়ে এক ছাত্রকে আশরাফ ঘুষি মারেন। এরপর ছাত্ররা এনসিপি নেতা আশরাফকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে ধাওয়া দেয়। পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে পড়লে দৌড়ে পালিয়ে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে আশ্রয় নেন এনসিপির নেতা আশরাফ। এসময় স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন এগিয়ে এলে ইটের আঘাতে আহত হন।
আহত পরীক্ষার্থী সাজিদ ইসলাম জানান, এনসিপির ওই নেতা প্রতি পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে এসে তার হবু স্ত্রীকে অনৈতিক সুবিধার ব্যবস্থা করতেন। এজন্য পরিক্ষার্থীরা আগে থেকেই তার উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। আজ আমাদের মারপিট করায় পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
আহত প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক মো. আশরাফের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হওয়ার একপর্যায়ে আশরাফ আমার কক্ষে আশ্রয় নেয়। এসময় শিক্ষার্থীদের ছোঁড়া ইট এসে আমার ডান হাতের কনুইয়ে এসে লাগে। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ আশরাফকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এসসিপি নেতার সাথে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীর আংটি বদল হয়েছে। এই সুবাদে প্রত্যেক পরীক্ষার দিন তিনি ওই পরীক্ষার্থীকে আনা নেওয়া করতেন। আজ পরীক্ষা শুরুর আগে হলের মধ্যে ঢোকায় শিক্ষার্থীদের সাথে আশরাফের ঝামেলা হয়। এ খবর পাওয়ার পর থানার পুলিশ গিয়ে আশরাফকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
এ প্রসঙ্গে এনসিপি নেতা আশরাফ বলেন, আমার হবু স্ত্রীকে আমি পরীক্ষার হলে দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে ছাত্রলীগের কিছু কর্মী যারা পরীক্ষা দিতে এসেছিল, তারা আমার হবু স্ত্রীকে ইভটিজিং করে। আমি প্রতিবাদ করায় তারা আমার উপর চড়াও হয়।

