মাঠে মাঠে ধান পেঁকে গেছে। চারদিকে সোনা বর্ণ ধান কাটার উৎসব চলছে।ঘনঘন ঝড়বৃষ্টি কৃষকের হ্নদয়ে কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছে। নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ধান পেঁকে গেছে অন্য দিকে প্রকৃতিক দুর্যোগের আতংকে সবাই একসাথে ধান কাটায় মনোনিবেশ করছে।ফলে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেছে।আর এই সুযোগে এখন প্রতিজন শ্রমিকের প্রতিদিনের শ্রমের মুল্য দাড়িয়েছে ১২০০ টাকা।অন্যদিকে ধানের দাম অনেকটা পড়ে গেছে।একমন ধানের দাম বড়জোর ৮৫০।ধানের দাম কম আর শ্রমিকের দাম বেশী।এনিয়ে কৃষকের মুখ মলিন।
শেরপুরেরপাকুড়িয়া,চরশেরপুর,ঝিনাগাতি,শ্রীবরদীর চাষি হযরত আলী,মোসলেম,সাবিদ,মমতাজ মিয়া বলেছেন শ্রমিকের মুল্য, ধান উৎপাদনে তাদের যে খরচ হয়েছে আর যে দরে বিক্রি করতে হচ্ছে তাতে বড় লোকসানে পড়েছি আমরা।সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অনেকেই ধান কাটবে না। এই অবস্থার আবার চোখ রাঙাচ্ছে ঝড়-বৃষ্টি। এতে বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এক মণ ধানের দামেই একজন শ্রমিকের মজুরি মেটানো যাচ্ছে না।কৃষকদের দাবী প্রতিদিন একজন শ্রমিক দুই মনের বেশী কাঁচা ধান কৃষকদের বাড়ী পর্যন্ত আনতে পারে না।তারপর আবার ধান শুকানো থেকে কৃষকের গোলা পর্যন্ত পৌছাতে মন প্রতি আরও অন্তত দুইশত টাকা খরচ আছে।সব মিলিয় তারা হতাশা ব্যক্ত করেছে।কৃষকরা বলছে উৎপাদন খরচ উঠবে না লোকসান হবে।
মাঠের কৃষকেদের দাবী, দ্রুত সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হোক।সহজ শর্তে কৃষকদের ধান কাটা মিশিন দেওয়া হোক।কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় শর্ত সহজ করা হোক।
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক শাখাওয়াত হোসেন বলেছেন শুকনো ধান ক্ষেত গুলো মিশিন ব্যবহার করে কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।আবহাওয়া জনিত কারণে শ্রমিকের দামটা বেশী হচ্ছে।আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়া শুরু করেছে।২/৪ দিনের মধ্যে শ্রমিকের দাম কমবে।আবার সরকার গুদামে ধান সংগ্রহ শুরু করলেই ধানের দাম বাড়তে থাকবে।আজ পর্যন্ত জেলায় মোট ২৪ শতাংশ ধান কাটা শেষে হয়েছে।

